ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্ট নন আসামিপক্ষের আইনজীবীরা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার পর আজ মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ইসরাত জাহান (বাঁয়ে) ও এম হাসান ইমাম। ১৫ সেপ্টেম্বর  ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির মৃত্যুদণ্ডের রায়ে রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবীরা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন ওবায়দুল কাদের, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, কার্যক্রম নিষিদ্ধ যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান (নিখিল) এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ (ইনান)। দণ্ডপ্রাপ্ত এই সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক।

শেখ ফজলে শামস পরশ, মাইনুল হোসেন খান, সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানের পক্ষে আইনি লড়াই করেছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ইসরাত জাহান। রায় ঘোষণার পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের কাছে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আসামিদের খালাস করানোর জন্য। যেভাবে আইন অনুযায়ী এগোনো যায়, আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি আরগুমেন্ট (যুক্তি প্রদর্শন) করে, জেরা করে; কিন্তু মাননীয় ট্রাইব্যুনাল আমার চার আসামিরই বিভিন্ন অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন, আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছেন।’

ইসরাত জাহান আরও বলেন, ‘ট্রাইব্যুনালের রায় মানতে আইনজীবী হিসেবে আমরা বাধ্য। ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার মতো ধৃষ্টতা আমাদের নেই। ট্রাইব্যুনালের রায় মানি, মান্য করি; কিন্তু আমি এই রায়ে সন্তুষ্ট না।’

অন্যদিকে ওবায়দুল কাদের, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম ও মোহাম্মদ আলী আরাফাতের পক্ষে লড়েছেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী এম হাসান ইমাম। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করেছি সর্বোচ্চভাবে। …দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে প্রিন্সিপাল অব কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির (নেতৃত্বের দায়বদ্ধতার নীতি) সুবিধা-অসুবিধা সবকিছু ব্যাখ্যা করেছি মাননীয় ট্রাইব্যুনালে। এখন রায়ে আমাদের এটা (যুক্তি) নেওয়া হয়েছে কি না, রায় না দেখে আমরা বলতে পারব না।’

রায়ের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে হাসান ইমাম বলেন, ‘মাননীয় বিচারপতিদের যে জাজমেন্ট (রায়), তার বিরুদ্ধে কথা বলার কোনো এখতিয়ার কিংবা বলার মতো ধৃষ্টতা আমাদের নেই।…এই রায়ে আমি সন্তুষ্ট হতে পারিনি।’