সুন্দরবনে দস্যুতার অভিযোগে দুই বছরে গ্রেপ্তার ৫৭: কোস্ট গার্ড

সুন্দরবনে মাছ ধরতে গিয়ে অপহরণের শিকার হন জেলেরাফাইল ছবি: প্রথম আলো

সুন্দরবনে দস্যুদের তৎপরতা বেড়েছে। দস্যুতার অভিযোগে ২০২৫ সালে ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করে কোস্ট গার্ড। আর আগের বছর (২০২৪ সাল) আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া গত বছর দস্যুদের কাছে জিম্মি থাকা ৫২ জনকে উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ডের সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, গত দুই বছরে সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে দস্যুতা ও ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করে তারা। এই দুই বছরে ৪৩টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৫টি হাতবোমা, ৭৮টি দেশি অস্ত্রসহ গুলি ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।

কোস্ট গার্ড সূত্র জানায়, ২০২৫ সালে সুন্দরবনে ডাকাত–জলদস্যুবিরোধী অভিযান চালিয়ে ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশি অস্ত্র ও অস্ত্র তৈরির বিপুল সরঞ্জাম, ৪৪৮টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানে দস্যুতার অভিযোগে ৪৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া জিম্মি থাকা ৫২ জন নারী–পুরুষকে উদ্ধার করা হয়।

অন্যদিকে ২০২৪ সালে পরিচালিত অভিযানে ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ৩টি হাতবোমা, ৪টি দেশি অস্ত্র, ৮টি কার্তুজ, ১০০টি ইয়াবা বড়ি, ৭টি মুঠোফোন ও ৪৭৯টি স্প্লিন্টার বল উদ্ধার করা হয়। এসব অভিযানে আট দস্যুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সূত্রে জানায়, সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ঘটে ২ জানুয়ারি। সুন্দরবনের গোলকানন রিসোর্ট থেকে কানুরখালসংলগ্ন এলাকায় কাঠের নৌকায় ভ্রমণের সময় ডাকাত মাসুম বাহিনীর সদস্যরা দুজন পর্যটকসহ রিসোর্টমালিককে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করে। এ ঘটনায় সুন্দরবনের পর্যটন খাতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানালে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে তাৎক্ষণিকভাবে যৌথ অভিযান শুরু হয়। টানা ৪৮ ঘণ্টার অভিযানে অপহৃত তিনজনকে উদ্ধার করা হয়। ডাকাত দলের একাধিক সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।

কোস্ট গার্ড বলছে, গত এক বছরে সুন্দরবনে ডাকাত ও জলদস্যুবিরোধী ২৭টি সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে আছাবুর বাহিনী, হান্নান বাহিনী, আনারুল বাহিনী, মঞ্জু বাহিনী, রাঙ্গা বাহিনী, করিম-শরিফ, আল-আমিন, ছোট সুমন ও ছোটন বাহিনীসহ বিভিন্ন ডাকাত দলের ৫৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।