প্রতারণা
প্রতীকী ছবি

পত্রিকায় জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন চাঁদপুরের ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলাম (৩২)। সেই জমি কেনার জন্য তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। ডেকে নেওয়া হয় রাজধানীর উত্তরার একটি অফিসে। জমি নিয়ে আলোচনার ফাঁকে সাইফুলকে ঘড়ি ব্যবসার প্রস্তাব দেওয়া হয়। এরই মাধ্যমে সাইফুল ও তাঁর ভায়রা আবদুল মান্নানের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হয় ২০ লাখ টাকা।

এ ঘটনার পর গত ৩০ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর থানায় একটি মামলা করেন আবদুল মান্নান। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ঢাকা মহানগর উত্তর। তদন্তে হাতে আসা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ বলছে, সাইফুল ইসলাম ও তাঁর ভায়রা প্রতারক চক্রের খপ্পরে পড়েছিলেন। এই চক্রের নাম ‘রয়েল চিটার ডিপার্টমেন্ট’ বা আরসিডি।

আজ রোববার দুপুরে পিবিআই ঢাকা মহানগর উত্তরের আগারগাঁও কার্যালয়ে বিশেষ পুলিশ সুপার মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ওই প্রতারক চক্রের তিন সদস্যকে গতকাল শনিবার উত্তরা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁরা হলেন আবদুল বারী ওরফে আফসার উদ্দিন খান ওরফে বজলুর রহমান মাসুদ (৬৬), মোয়াজ্জেম হোসেন (৬৫) ও মো. নাঈম (৪৩)। চক্রের হোতা আবদুল বারীর বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে।

প্রতারণার ঘটনা আদ্যোপান্ত তুলে ধরতে গিয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, সাইফুল ইসলাম ২৬ শতক জমি বিক্রির জন্য অনলাইনে বিজ্ঞাপন দেন। পরে শরীফ পরিচয় দিয়ে একজন জানান, তাঁর মালিক আফসার উদ্দিন খান (আবদুল বারী) জমি কিনবেন। সে অনুযায়ী জমির কাগজপত্র নিয়ে ১৭ জুলাই উত্তরা বিমানবন্দর থানা এলাকার একটি অফিসে যান সাইফুল ও মান্নান। সেখানে জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এক দিন পর ১৯ জুলাই জমি নিবন্ধনের সিদ্ধান্ত হয়।

আলোচনার শেষের দিকে গ্রেপ্তার মোয়াজ্জেম হোসেন হঠাৎ সেখানে থাকা আফসার উদ্দিন খানকে বলেন, তাঁর মালিক ভারতীয় নাগরিক। তিনি কিছু দামি ব্র্যান্ডের ঘড়ি কিনবেন। ঘড়ি দিতে পারলে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকার ব্যবসা হবে। একপর্যায়ে আফসার ওই ভারতীয় নাগরিককে সেখানে আনতে বলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর একজন আসেন। তাঁকে ভারতীয় বলে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম আরও জানান, ভারতীয় নাগরিক পরিচয় দিয়ে ওই ব্যক্তি আফসারকে ঘড়ির দাম বাবদ অগ্রিম প্রায় ৩৫ লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা পরদিন পরিশোধ করে ঘড়ি বুঝে নিয়ে যাবেন বলে তিনি চলে যান। পরে আবদুল মান্নান ও সাইফুলকে এই ঘড়ির ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার প্রস্তাব দেন আফসার। এ জন্য তাঁদের কাছে ২০ লাখ টাকা চান। সে অনুযায়ী দুজন আফসারকে ২০ লাখ টাকা দেন।

পিবিআই জানিয়েছে, ১৯ জুলাই জমি নিবন্ধনের দিনে কথিত ক্রেতাদের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পান সাইফুল ও মান্নান। বুঝতে পারেন, তাঁরা প্রতারণার শিকার হয়েছেন। দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁরা মোয়াজ্জেমকে আটকে রেখে বিমানবন্দর থানায় খবর দেন। পুলিশ গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে। পরে আফসার ও নাঈমকে গ্রেপ্তার করা হয়। চক্রের আরেক সদস্য মাসুদ পলাতক। তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

পিবিআই আরও জানিয়েছে, রয়েল চিটার ডিপার্টমেন্টের হোতা আবদুল বারী নিজের পরিচয় দিতেন বড় ব্যবসায়ী হিসেবে। কখনো আসবাব, কখনো রাসায়নিক আবার কখনো ঘড়ি ব্যবসার কথা বলে মানুষকে ফাঁদে ফেলতেন তিনি। বারী একসময় মালয়েশিয়ায় থাকতেন। সেখান থেকে আসার পর ২০১৩ সালে প্রতারণা শুরু করেন তিনি। ইতিমধ্যে এই চক্রের সদস্যরা বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।