অন্যের মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে চাকরি নেওয়া তিনজন রিমান্ডে

নিজের বদলে অন্যকে দিয়ে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া চার আসামিছবি: সংগৃহীত

অন্যের (প্রক্সি পরীক্ষার্থী) মাধ্যমে মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অফিস সহায়ক পদে চাকরি নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তার চারজনের মধ্যে তিনজনের এক দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। অসুস্থতার কারণে অপর আসামিকে কারাফটকে (জেলগেট) জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) শাহ আলম প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি হলেন সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার মো. আলী হায়দার, কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মো. রাসেল রানা লিটন ও গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার মো. মাসুদ ফকির। আর অসুস্থতার কারণে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার মো. আবদুল আলিমকে রিমান্ডে না পাঠিয়ে কারাফটকে জিজ্ঞাসাবাদের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

এর আগে ২১ জুলাই শাহবাগ থানার এসআই আবদুল গাফফার আসামিদের প্রত্যেকের সাত দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য আজ দিন ধার্য রেখেছিলেন।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, গ্রেপ্তার চার আসামি অন্যের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে চাকরি নিয়েছেন। এটি একটি নিয়োগ–বাণিজ্যের চক্র। সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।

রিমান্ড বাতিল চেয়ে আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল লতিফ তালুকদার জামিন আবেদন করেন। শুনানিতে তিনি বলেন, সরকারি চাকরির জন্য তাঁরা দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা করছেন। মেধা দিয়েই তাঁরা চাকরি পেয়েছেন। প্রিলিমিনারি, লিখিত ও ভাইভা (মৌখিক)—সব পরীক্ষাই দিয়েছেন, তখন কিছু হলো না। হঠাৎ যোগদানের দিন তাঁদের ফাঁসানো হচ্ছে।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ বেলা ১টা ২০ মিনিটের দিকে অভিযুক্ত চারজনকে হাতকড়া পরানো অবস্থায় কড়া নিরাপত্তায় কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। অন্য মামলার কার্যক্রম চলায় বেলা তিনটার পর তাঁদের শুনানি শুরু হয়। উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারক আদেশ অপেক্ষমাণ রেখে এজলাস ত্যাগ করেন। এ সময় কাঠগড়ায় থাকা আসামিদের সঙ্গে স্বজনদের কথা বলতে দেখা যায়। পরে বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে আদালত আদেশ দিলে আসামিদের হাজতখানায় নেওয়া হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ১৯ জুলাই সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে সচিবালয় থেকে ওই চারজনকে আটক করে শাহবাগ থানা–পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা এইচ এম আরিফুর রহমান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় প্রতারণার মামলা করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় গত ৫ মে অফিস সহায়ক (গ্রেড–২০) পদের ২০টি শূন্য পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। এরপর ১৯ জুন লিখিত এবং ২৪, ২৫ ও ২৬ জুন মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। ৬ জুলাই চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত প্রার্থীদের নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। নির্বাচিত প্রার্থীদের ১৯ জুলাই সকাল ১০টার মধ্যে সচিবালয়ের ১ নম্বর ভবনের ১৮০২ নম্বর কক্ষে যোগদানপত্র জমা দিতে বলা হয়েছিল।

যোগ দিতে আসার পর ওই চারজনের আচরণ সন্দেহজনক মনে হলে মৌখিক পরীক্ষার সময় তোলা ছবির সঙ্গে তাঁদের মুখমণ্ডল মিলিয়ে দেখা হয়। ফেস ভেরিফিকেশনে (চেহারা যাচাইয়ে) অসংগতি ধরা পড়ার পর জিজ্ঞাসাবাদে তাঁরা স্বীকার করেন, অর্থের বিনিময়ে অন্যদের মাধ্যমে (প্রক্সি) পরীক্ষা দিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন।