অস্ত্র রেখে ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা নস্যাতের দাবি পুলিশের, গ্রেপ্তার ৫
পুরান ঢাকার সূত্রাপুরে গাড়ির যন্ত্রাংশের একটি দোকানে অস্ত্র রেখে এক ব্যবসায়ীকে ফাঁসানোর পরিকল্পনা নস্যাৎ করে দেওয়ার দাবি করেছে পুলিশ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও দুটি তাজা কার্তুজ জব্দ করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. জাকি উল্ল্যাহ বাহার (৫৮), মো. আনোয়ারুল হক (৬২), জাকির হোসেন লিটন (৪৮), হিরু বড়ুয়া ওরফে বাবু (৩৬) ও সরদার সাইদুর রহমান তুহিন (৪৭)।
আজ বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী এসব তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।
ডিএমপি জানায়, গতকাল বুধবার বিকেলে তুরাগ থানার দিয়াবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির একটি দল আসামি গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে সূত্রাপুর থানার বাহাদুরশাহ পার্ক–সংলগ্ন নাজিম উদ্দিন বারো ভূঁইয়া মার্কেটে অভিযান চালায়। এ সময় সূত্রাপুর থানার টহল পুলিশও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসে।
অভিযান শেষে পুলিশ দল ‘ভূঁইয়া মোটরস’ নামের একটি দোকান থেকে বের হওয়ার সময় মুখোশধারী দুই ব্যক্তি দোকানের ভেতরে দুটি কার্টন রেখে দ্রুত পালিয়ে যান। দোকানের কর্মচারীরা বিষয়টি পুলিশকে জানালে তাৎক্ষণিক কার্টন দুটি তল্লাশি করা হয়। সেখান থেকে দুটি দেশীয় তৈরি পাইপগান ও দুটি ১২-বোর তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে টানা অভিযান চালিয়ে বুধবার রাতে এ ঘটনায় জড়িত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, সিসিটিভি (ক্লোজড সার্কিট ক্যামেরা) ফুটেজ বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, মুখোশধারী ব্যক্তিরা মার্কেটের ‘টয়োটা প্লাস’ নামের অন্য একটি দোকান থেকে কার্টন দুটি সংগ্রহ করে ‘ভূঁইয়া মোটরস’-এ রেখে যায়। মূলত সাদা রঙের একটি মিতসুবিশি পাজেরো গাড়ি থেকে অস্ত্রভর্তি কার্টন দুটি আনা হয়েছিল।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, মার্কেটের দখল ও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানো এবং পুলিশি হয়রানিতে ফেলতে এই সাজানো তল্লাশির পরিকল্পনা করা হয়েছিল। তবে পুলিশের সময়োপযোগী ও পেশাদার ভূমিকার কারণে সেই ষড়যন্ত্র নস্যাৎ হয়ে যায়। ওই ঘটনায় সূত্রাপুর থানায় একটি অস্ত্র মামলা করা হয়েছে।