দণ্ড পাওয়া ব্যক্তিরা হলেন গঙ্গাচড়া উপজেলার নরসিংহ মর্ণেয়া গ্রামের আবুজার রহমান (২৮), আলমগীর হোসেন (২৭), নাজির হোসেন (৩২), আবদুল করিম (২৯) ও আমিনুর রহমান (২৯)। তাঁদের মধ্যে আলমগীর পলাতক।

মামলার উদ্ধৃতি দিয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম জানান, মামলার প্রধান আসামি অভিযুক্ত আবুজারের সঙ্গে ওই কিশোরীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে সে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় বিয়ের চাপ দিলে আবুজার বিয়ে করতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে ওই কিশোরী বিষয়টি তার পরিবারকে জানালে আবুজার তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালের ১৪ মে ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা ও মা লালমনিরহাটে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যান। এ সময় ওই কিশোরী ও তার ভাগনে বাড়িতে একা ছিল। এ সুযোগে আবুজার সহযোগীদের নিয়ে সন্ধ্যায় ওই কিশোরীর বাড়িতে যান এবং তাকে কৌশলে ডেকে নিয়ে পাশের একটি খেতে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেন। পরে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাকে হত্যা করে পালিয়ে যান তাঁরা। ওই দিন রাতে কিশোরীর বাবা-মা বাড়িতে ফিরে মেয়েকে না পেয়ে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেন। পরের দিন সকালে বাড়ির অদূরে একটি খেত থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে ওই কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে গঙ্গাচড়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গঙ্গাচড়া থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌহিদুল ইসলাম তদন্ত শেষে আবুজারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দেন।

প্রায় সাত বছর আদালতে বিচার চলার পর ১০ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে আজ পাঁচ আসামিকে আমৃত্যু কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা করে জরিমানা করেছেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আদালতের রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। বাদীপক্ষ ন্যায়বিচার পেয়েছে। এ রায় ভবিষ্যতে এমন অপরাধ থেকে মানুষকে বিরত রাখবে বলে আমি মনে করি।’