অনলাইন প্রতারণা-জুয়ার অভিযোগে দুই চীনা নাগরিকসহ পাঁচজন তিন দিনের রিমান্ডে
সাইবার স্পেস ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণা, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা ও অনলাইন জুয়ার মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দুই চীনা নাগরিকসহ পাঁচজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত পুলিশ ও আসামিপক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কামাল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেছিলেন। আদালত শুনানি শেষে তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন—মো. সোয়েব আহাম্মদ তামীম (২৭), আবদুর রহিম (২১), মো. আলামিন (৩৮) এবং চীনা নাগরিক ঝাং পেংকুয়ান (৩৬) ও শেন জুয়েফেং (৬০)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৩১ জুলাই গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রাজধানীর ভাটারা থানার কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় অভিযান চালায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড অবৈধভাবে কেনাবেচার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে গ্রামীণফোন ও বাংলালিংকের সচল ৩৩০টি সিম কার্ড এবং কয়েকটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়।
পরে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাটারা ও উত্তরা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে দুই চীনা নাগরিকসহ চক্রের বাকি সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে তল্লাশি চালিয়ে বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরের বিপুলসংখ্যক সচল সিম কার্ড, মুঠোফোন, একটি ল্যাপটপ, নগদ ১ লাখ ৭ হাজার টাকা এবং ৪৮টি চীনা মুদ্রা (আরএমবি) জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় ১ আগস্ট ভাটারা থানায় মামলা করেন ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের এসআই সামনুর মোল্লা সোহান।
আবেদনে আরও বলা হয়, সংগৃহীত এসব সিম কার্ড সাইবার প্রতারণা, অনলাইন জুয়া, অবৈধ ভিওআইপি কলসহ বিভিন্ন জালিয়াতিমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহারের জন্য অপরাধী চক্রের কাছে সরবরাহ করা হতো। এই চক্রের বাকি সদস্যদের শনাক্ত করতে, অপরাধে ব্যবহৃত প্রযুক্তির ধরন এবং এই অবৈধ ব্যবসার অর্থের উৎস উদ্ঘাটন করতেই আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ) বিভাগের এসআই শামীম হোসেন রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। চক্রটি ফেসবুক, টেলিগ্রাম, উইচ্যাট ও হোয়াটসঅ্যাপের মতো বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম কার্ড সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও কেনাবেচা করে আসছিল।