মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে ৪ ঘণ্টার অভিযানে গ্রেপ্তার ৩৮

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা
ছবি: পুলিশের সৌজন্যে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর আগে বুধবার মোহাম্মদপুর ও আদাবর এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ৯৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ২ দিনে ওই এলাকা থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৩৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

পুলিশ জানায়, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজানের নেতৃত্বে মোহাম্মদপুর অঞ্চলের পুলিশ এবং ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইমের (সিটিটিসি) ডগ স্কোয়াড গতকাল সন্ধ্যা সাতটার দিকে যৌথ অভিযান শুরু করে।

মাদক-সংশ্লিষ্টসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের ধরতে চালানো এ অভিযান চলে রাত ১১টা পর্যন্ত। ৪ ঘণ্টা ধরে চলা এ অভিযানে মোট ৩৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় একটি সামুরাই ও দুটি ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন মনির (৩০), আরিফ (২৫), সোহান (২০), হৃদয় (২৪), সোহেল (২৮), মাহিম ওরফে সায়েম (২২), রমজান (২৩), সাব্যস্ত (২৩), জুবায়ের (২০), রুবেল ওরফে বাদশা (২৫), রিয়াজ (৩০), গোলাপ মোস্তফা (২৯), সানি (২৭), হানিফ (২৮), ফয়সাল (২৯), রহমতুল্লাহ (২৮), জাকির (২৮), আবদুল সালাম (৪৫), রুমন (৩০), হাসান (২৪), রফিক (৩৯), রাব্বি (১৯), রায়হান (৩৯), সোনা ওরফে রানা (২০), আবু আয়ান (২২), নাদিম (৪৩), সামির (২১), শোভা (১৯), জয়নাল আবেদীন (৪০), আকাশ (১৯), আরিফ (২৪), আরিফ (১৮), আবদুর রহমান (১৮), জিহাদ (১৮), রাজু হাওলাদার (২৮), লিটন (২১), সাব্বির (২০) ও রবিউল (১৯)।

প্রায় প্রতিদিনই মোহাম্মদপুর এলাকায় অভিযান চলছে, গ্রেপ্তার হচ্ছেন অপরাধীরা। এরপরও অপরাধ থামানো যাচ্ছে না কেন, জানতে চাইলে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার মো. ইবনে মিজান আজ শুক্রবার প্রথম আলোকে বলেন, মোহাম্মদপুর এলাকায় অন্তত ১৫ লাখ মানুষ বাস করেন। এর মধ্যে তিন থেকে চার লাখ মানুষ ভাসমান। এ ছাড়া বিভিন্ন এলাকায় অপরাধ ঘটিয়ে অপরাধীরা নিরাপদ ভেবে মোহাম্মদপুরে এসে গা ঢাকা দেন। তবে একের পর এক অভিযানে অপরাধী ধরা পড়ায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে এসেছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মাদক কারবারি, মাদকসেবী, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, চোর, ছিনতাইকারী ও চাঁদাবাজ রয়েছেন।

ডিএমপির মোহাম্মদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত উপকমিশনার জুয়েল রানা আজ প্রথম আলোকে বলেন, গত রাতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, দস্যুতা ও চুরির অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা হয়েছে। তিনজনকে আগের গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় আইনের আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া বাকি ২৮ জনের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় বিভিন্ন আইনে মামলা দিয়ে তাঁদের ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।