ডিবি বলছে, কাজের ধরনের কারণে তাঁদের ফোন করে সহজে বাসায় ডেকে নেওয়া যেত। এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিত্তশালীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তাঁদেরও বাসায় ডেকে নিয়ে প্রতারণা করতেন তাঁরা। গ্রেপ্তারের সময় তাঁদের কাছ থেকে তিনটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। সেগুলোয় বিভিন্ন বিমা কোম্পানির অন্তত সাতজন প্রতিনিধির বিশেষ মুহূর্তের ভিডিও পাওয়া গেছে।

ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, একজন বিমা প্রতিনিধি ঢাকার দারুসসালাম থানায় পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করেন। মামলাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা পুলিশ। এরপর প্রতারক চক্রটির সন্ধান পাওয়া যায়। তারা ভিডিও ধারণ করে মানুষকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করত। তিনি বলেন, ভুক্তভোগীরা পরিবার ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার ভয়ে চক্রের সদস্যদের চাহিদামতো টাকা দিতেন।

সংশ্লিষ্ট ডিবি সূত্র জানায়, যেসব ভুক্তভোগীর কাছে ব্যাংকের এটিএম কার্ড পাওয়া যেত, তাঁদের কাছ থেকে জোর করে কার্ডের পিন নম্বর জেনে টাকা তুলে নিতেন এ সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সদস্যরা। ভুক্তভোগীদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ের গোপন নম্বর নিয়েও টাকা তুলে নিতেন তাঁরা। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকের চেক বইয়ে এবং খালি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর রেখে চোখ ও হাত–পা বেঁধে গাড়িতে করে ঢাকা ও এর আশপাশের নির্জন এলাকায় নিয়ে ফেলে দিতেন।

গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা অপহরণেরও জড়িত বলে জানান মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। তাঁরা বলছেন, বিলকিস মুঠোফোনে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে দেখা করার কথা বলে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ডাকতেন। পরে চক্রের দুই থেকে তিন সদস্য ওই ব্যক্তিকে সিএনজি অটোরিকশায় উঠিয়ে হাত–পা বেঁধে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যেতেন। পরে বাঁশের লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে জোর করে বিবস্ত্র করে ভিডিও করে টাকা দাবি করতেন।