আদালত থেকে খুনের আসামি পালানোর ঘটনায় মামলা, পুলিশ কনস্টেবল বরখাস্ত, তদন্ত কমিটি গঠন
হত্যা মামলার আসামি শরিফুল ইসলাম ঢাকার আদালত থেকে দ্বিতীয়বার পালানোর ঘটনায় রাজধানীর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে আবদুল আলিম নামে এক কনস্টেবলকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং পাশাপাশি তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (ডিসি) মহিউদ্দিন মাহমুদ সোহেল প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, আসামি শরিফুল ইসলাম পালানোর ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছে। ওই আসামির নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তদন্ত কমিটিতে আছেন ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নাসিরুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (এসি) মেহেদী হাসান ও পুলিশ পরিদর্শক মো. জসীম।
এ ঘটনায় ডিএমপির কোতোয়ালি থানায় বাদী হয়ে মামলা করেছেন আদালতের হাজতখানার ইনচার্জ মোরশেদ আলম। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেছেন, দণ্ডবিধির ২২৪ ধারায় করা ১৭(৬)২৫ নম্বর মামলার হাজতি আসামি মো. শরিফুল ইসলামকে (২৮) মঙ্গলবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সিএমএম আদালতের হাজতখানায় আনা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে কনস্টেবল মো. আবদুল আলিম তাঁকে হাতকড়া পরিয়ে ৭ নম্বর বিচারিক আদালতের এজলাসের কাঠগড়ায় শিকলের সঙ্গে আটকে রাখেন। এরপর তিনি এজলাসের সামনের বারান্দায় যান।
এজাহারে বলা হয়, বারান্দা থেকে ফিরে আনুমানিক দুপুর ১২টা ২৭ মিনিটে কনস্টেবল আবদুল আলিম দেখেন, শরিফুল কাঠগড়ায় নেই। তাঁর হাতকড়াটি কাঠগড়ার গ্রিলের সঙ্গে ঝুলছে। তখন আবদুল আলিম বুঝতে পারেন, তিনি বারান্দায় থাকার সময় শরিফুল হাতকড়া খুলে কৌশলে প্রহরী দলের চোখ এড়িয়ে পালিয়ে গেছেন।
মামলায় মোরশেদ আলম আরও উল্লেখ করেছেন, আবদুল আলিম তাৎক্ষণিকভাবে তাঁকে আসামি পালানোর বিষয়টি জানান। তিনি বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানান। হাজতখানার পুলিশ ও কোতোয়ালি থানা-পুলিশের সহায়তায় খোঁজাখুঁজি করেও আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পলাতক আসামি শরিফুলের বাড়ি দিনাজপুরে। বাবার নাম শফিক আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলা আছে। খিলগাঁও থানার হত্যা মামলায় শরিফুল কারাগারে ছিলেন।
এ মামলায় ২০২৫ সালের ১৯ জুন তাঁকে কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়েছিল। সেদিন তিনি পুলিশের এক সদস্যকে কামড় দিয়ে আদালত প্রাঙ্গণ থেকে পালিয়ে যান। ঘটনার পর পুলিশ জানায়, ২০১৮ সালে শরিফুলের বিরুদ্ধে খিলগাঁও থানায় হত্যা মামলাটি হয়েছিল। এ মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে তিনি ছয় বছর কারাগারে ছিলেন। ২০২৫ সালের ১৯ জুন পালানোর ঘটনায় সেদিনই কোতোয়ালি থানায় শরিফুলের বিরুদ্ধে মামলা হয়। একই বছরের ১ অক্টোবর ফেনী থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এর পর থেকে তিনি আবার কারাগারে ছিলেন।