তরুণীদের লক্ষ্য করে প্রতারণা, এক যুবককে গ্রেপ্তারের পর বেরিয়ে এল অনেক তথ্য
গত ৪ মার্চ রাজধানীর যাত্রাবাড়ী থানায় অভিযোগ করে এক তরুণী জানান, তাঁর ব্যক্তিগত ভিডিও ব্যবহার করে তাঁকে ‘ব্ল্যাকমেল’ করা হচ্ছে। সেই অভিযোগের তদন্তে নেমে সন্দেহভাজন অপরাধীর খোঁজ পেয়েছে পুলিশ। ওই যুবক গত দেড় মাসে একই কৌশলে অন্তত ১০ জনের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন বলেও পুলিশ জানতে পেরেছে।
আজ বুধবার রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ওয়ারী বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী এ তথ্য জানান। ১৩ এপ্রিল রাশিদুল ইসলাম রাব্বি (৩০) নামের ওই প্রতারককে যাত্রাবাড়ী থানা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তা মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ‘যাত্রাবাড়ী থানায় একটি অভিযোগের ভিত্তিতে প্রথমে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করি। প্রথম অভিযোগটি ছিল, একজন তরুণীকে পর্নোগ্রাফি দিয়ে ব্ল্যাকমেল করা হচ্ছিল। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তারের পর একের পর এক নতুন তথ্য সামনে আসতে থাকে। এখন পর্যন্ত আমরা মোট ১০টি অভিযোগ পেয়েছি, আর আসামি নিজে ১৩টি ঘটনার কথা স্বীকার করেছে।’
সব ক্ষেত্রে প্রতারণার ধরন একই ছিল জানিয়ে মল্লিক আহসান উদ্দিন সামী বলেন, ওই যুবক ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেল করতেন, কখনো ধর্ষণ করতেন আবার কখনো ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করে টাকা আদায়ে চাপ সৃষ্টি করতেন। যেসব ভুক্তভোগীকে পাওয়া গেছে, বেশির ভাগই ঢাকার মিরপুর এলাকার।
গত ৪ মার্চ সাধারণ ডায়েরির (জিডি) পর ৯ এপ্রিল পর্যন্ত গত দেড় মাসের মধ্যে ১০টি অভিযোগ পাওয়া গেছে রাব্বির বিরুদ্ধে।
পুলিশ কর্মকর্তা মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, ‘রাব্বি প্রথমে একজন নারীকে টার্গেট করত। পরিচয়ের পর শুরুতে ওই নারীর মুঠোফোন নিয়ে নিত এবং তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্টগুলো নিজের নিয়ন্ত্রণে নিত। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে ওই নারীর বন্ধুতালিকার অন্য মেয়েদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করত। ধীরে ধীরে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করে তাদের নানা অজুহাতে বাইরে ডেকে নিত।’
যাত্রাবাড়ী থানার দনিয়া কলেজ–সংলগ্ন এলাকায় দুটি বাসায় ভুক্তভোগীদের নেওয়া হতো জানিয়ে নিয়ে মল্লিক আহসান উদ্দিন বলেন, ‘দিনের বেলায় একটিতে, রাতের বেলায় আরেকটি বাসায় নিয়ে যেত। সেখান থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।’
ব্ল্যাকমেল করে নারীদের কাছ থেকে স্বর্ণালংকার, মুঠোফোন, নগদ টাকা, ব্যাংক থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হতো বলে পুলিশ জানতে পেরেছে।
ভুক্তভোগীদের অনেকেই শুধু জিডি করতেন জানিয়ে পুলিশ কর্মকর্তা ওয়াসী উদ্দিন বলেন, ‘তদন্ত শুরুর পর প্রথমে অভিযোগ কম পাওয়া গেলেও পরে দেখা যায়, অনেকে সামাজিক সম্মানের ভয়ে সরাসরি অভিযোগ না করে “মোবাইল হারিয়েছে” উল্লেখ করে জিডি করেছেন। সেই সূত্র ধরে আমরা ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে পেরেছি।’
রাব্বির বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত তিনটি মামলা হয়েছে, আরও তিন-চারটি জিডি তদন্তাধীন। রাব্বির কাছ থেকে পাঁচটি মুঠোফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া মোবাইলগুলো পরীক্ষা করে দেখেছি। প্রতিটি মোবাইলই কোনো না কোনো ভুক্তভোগীর। যখন আমরা নতুন করে যোগাযোগ করি, তখন অনেকেই নিজেকে ভুক্তভোগী বলে জানিয়েছেন।’
রাশেদুল ইসলাম রাব্বি নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে শ্বশুরবাড়িতে থাকতেন। কোনো কাজ করতেন না, অপরাধ করেই আয় করতেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
মল্লিক ওয়াসী উদ্দিন বলেন, ‘রাব্বি যাকে বিয়ে করেছে, তাকেও একই কৌশলে ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেছে। এমনকি শ্বশুরবাড়িতেও একই ধরনের কাজ করতে গিয়ে একবার ধরা পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।’
রাব্বিকে নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ থাকলে পুলিশকে জানাতে অনুরোধ করেন মল্লিক আহসান উদ্দিন।