পল্লবীতে শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার রায়ে সন্তুষ্ট আসামিপক্ষ–রাষ্ট্রপক্ষ উভয়েই

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানাকে আদালত থেকে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। আজ রোববার সকালে, ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালেছবি: দীপু মালাকার

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশুকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় আসামি সোহেল রানা আর তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী। রায়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন আসামিপক্ষের আইনজীবীও।

আজ রোববার ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেহীন এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি সোহেল রানাকে পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নাকে দুই লাখ টাকা জরিমানা করেছেন আদালত।

আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমুল্যাহ বলেন, ‘অপরাধীরা তাদের অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।’ রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, ‘সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন। সোহেল ও স্বপ্নার মৃত্যুদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছেন আদালত। ন্যায়বিচার পেয়েছি। অপরাধীরা অপরাধের বিচার পেয়েছে। আমি সন্তুষ্ট।’

এদিকে এই মামলার রায়কে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে মাইলফলক বলে মন্তব্য করেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু। তিনি বলেন, এই মামলার রায় চার কার্যদিবসে সম্পন্ন হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে এই রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে এ ধরনের অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে। তিনি আরও বলেন, ‘এই রায়ে আমরা প্রসিকিউশন পক্ষ সন্তষ্ট।’

আরও পড়ুন

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আরও বলেন, একটি রাষ্ট্রের মৌলিক কাজ হলো শিশুদের ভবিষ্যৎ নিরাপদ আবাস তৈরি করা। শিশুদের রক্ষা করা। কোনো শিশুর ওপর যখন ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে, রাষ্ট্র তখন অতি দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে যে এই বিচারকাজটি শেষ করতে সহায়তা করেছে, তা অবশ্যই একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে।

এই মামলায় রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের যুক্তিতর্কের শুনানি শেষ হয় গত বৃহস্পতিবার। আদালত ৭ জুন রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন। শিশুটি ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয় গত ১৯ মে। সে হিসাবে ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় রায় ঘোষণা হলো।

ঘটনার দিন (১৯ মে) যে সময় পল্লবীর একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশুটির খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করা হয়, তার আগেই ফ্ল্যাটটির বাসিন্দা আসামি সোহেল শৌচাগারের গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যান। বাসা থেকে তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে তখনই আটক করা হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

আরও পড়ুন

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা পল্লবী থানায় মামলা করেন। গত ২০ মে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার। এ মামলায় ১ জুন সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।

ঘোষণা: নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং প্রথম আলোর নীতিমালা অনুসারে এই প্রতিবেদনে শিশুটি ও তার মা–বাবার নাম,পরিচয় দেওয়া হলো নাI

আরও পড়ুন