আসামির বদলে আরেক নারীকে আদালতে হাজির: আত্মসমর্পণ করে জামিন পেলেন আইনজীবী

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতফাইল ছবি

রাজধানীর আদালতে ২৯ লাখ টাকার চেক ডিজঅনার মামলায় এক নারী আসামির হয়ে অন্য নারী ‘প্রক্সি’ দিয়ে ধরা পড়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিন পেয়েছেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন।

আজ সোমবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সেফাতুল্লাহর আদালত শুনানি শেষে অভিযুক্ত এই আইনজীবীর জামিন আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, অভিযুক্ত আইনজীবী আদালতে আত্মসমর্পণ করে আজ জামিন পেয়েছেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, সরকারি চাকরিজীবী নিবেদিতা আহমেদ ২০২৫ সালের ২৩ মার্চ নাসরিন সিকদার নামের একজনের বিরুদ্ধে চেক ডিজঅনারের মামলা করেন। ১৬ জুন আসামি নাসরিন আদালতে হাজির না হওয়ায় তাঁর জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে আদালত পরবর্তী শুনানির দিন ২০ আগস্ট ধার্য করেন।

তবে ২৫ জুন মূল আসামি নাসরিন সিকদারের হয়ে মনোয়ারা বেগমকে আদালতে হাজির করে জামিনের আবেদন করেন আইনজীবী হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। পরে মনোয়ারা আটক হলে তাঁকে পুলিশ নিয়ে যায়।

এ ঘটনার পর ওই দিন রাতেই সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিয়া মো. ইব্রাহিম খলিল অপু বাদী হয়ে নাসরিন সিকদার, তাঁর হয়ে আদালতে প্রক্সি দিতে এসে ধরা পড়া মনোয়ারা বেগম ও আইনজীবী মো. হাম্মাদ এমদাদ হোসাইনকে আসামি করে মামলা করেন। ওই মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে মনোয়ারা বেগম বর্তমানে কারাগারে এবং মূল আসামি নাসরিন সিকদার পলাতক।

এ মামলায় গত ৩০ জুন উচ্চ আদালত থেকে আট সপ্তাহের জামিন পান হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন। জামিনের মেয়াদ শেষ হতে যাওয়ায় আজ নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান তিনি। তাঁর পক্ষে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ কয়েকজন আইনজীবী জামিন চেয়ে শুনানি করেন।

শুনানিতে বলা হয়, ২৫ জুন এই আইনজীবী হাইকোর্ট প্রাঙ্গণে অবস্থানকালে কে বা কারা তাঁর নামের সিল ব্যবহার করে প্রক্সি আসামি আত্মসমর্পণ করায়। তিনি এ বিষয়ে অবগত ছিলেন না। ঘটনার দিন তিনি হাইকোর্ট বিভাগে অবস্থান করছিলেন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত নন। শুনানি শেষে পুলিশ প্রতিবেদন জমা দেওয়া পর্যন্ত আদালত তাঁর জামিন মঞ্জুর করেন।

মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়, নাসরিন সিকদারের মামলাটি ঢাকার চতুর্থ যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ তানিয়া সুলতানার আদালতে বিচারাধীন। ২৫ জুন বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মনোয়ারা বেগম প্রকৃত আসামি পরিচয়ে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। শুনানিকালে তাঁর নাম-ঠিকানা ও মামলার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি সঠিকভাবে বলতে পারেননি।

আদালতের সন্দেহ হলে মনোয়ারাকে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে নথিপত্র ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের মাধ্যমে দেখা যায়, ওই নারী প্রকৃত আসামি নন এবং মিথ্যা পরিচয়ে আদালতে হাজির হয়েছিলেন। নাসরিন সিকদার ও হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মনোয়ারাকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে প্রকৃত আসামি সাজিয়ে আদালতে উপস্থিত হতে প্ররোচিত করেন।

মামলার অভিযোগে আরও বলা হয়, হাম্মাদ এমদাদ হোসাইন মামলার নথিভুক্ত ওকালতনামায় নিজের হাতে নাম লিখেছেন এবং ভুয়া ব্যক্তিকে আদালতে উপস্থাপন করেছেন। আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বিচারিক কার্যধারায় প্রতারণামূলকভাবে অন্যের রূপ ধারণ করে মূল্যবান জামানত জাল-জালিয়াতি করেছেন এবং আদালতকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছেন।