পল্লবীতে হামলায় এক নারী নিহতের অভিযোগ, এজাহার ‘পছন্দ না হওয়ায়’ চার দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ
রাজধানীর পল্লবীর বাউনিয়াবাদ এলাকায় বস্তির একটি ঘর দখলকে কেন্দ্র করে হামলায় সশিলা বেগম (৭১) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে তাঁর পরিবার। গতকাল রোববার তাঁর মৃত্যু হয়।
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, গত শুক্রবার এ হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় এক পরিবারের চারজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে একজন মারা গেছেন। হামলার পর চার দিন হয়ে গেলেও মামলা নেয়নি পুলিশ।
সশিলা বেগমের মেয়ে পাখি আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, পল্লবীর ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক খন্দকার ইব্রাহিম খলিলের নির্দেশে কালা মোতালেবসহ ১৫-২০ জন তাঁর পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলা করে। হামলায় গুরুতর আহত হয়ে তাঁর মা মারা গেছেন।
পাখি আক্তারের দাবি, বস্তিতে তাঁদের একটা ঘর রয়েছে। ঘরটি রিকশার গ্যারেজ হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ওই ঘর দখলে নিতে হামলা করা হয়। তিনি বলেন, ‘হামলার পর চার দিন ধরে কয়েক দফায় থানায় গিয়েছি। কিন্তু পুলিশ মামলা নেয়নি। পুলিশ বলেছে, মামলার এজাহার থেকে ইব্রাহিমের নাম বাদ দিলে মামলা নেবে।’
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বাসির প্রথম আলোকে বলেন, ওই নারী আগে থেকেই অসুস্থ ছিলেন। ভুক্তভোগী পরিবার বলছে হামলায় মারা গেছেন। তাই লাশ ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। এখন মামলা নেওয়া হবে।
মামলা থেকে ইব্রাহিম খলিলের নাম বাদ দিতে বলা হয়েছে—পরিবারের এমন অভিযোগ প্রসঙ্গে ওসি বলেন, তিনি এমন কিছু বলেননি।
এদিকে এই ঘটনার পর ইব্রাহিম খলিলকে যুবদলের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। আজ সোমবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল বলছে, দলীয় শৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পল্লবী ৫ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের আহ্বায়ক ইব্রাহিম খলিল ও সদস্যসচিব রিয়াজকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে খন্দকার ইব্রাহিম খলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন ধরেননি।