প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবেন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

সিআইডি সদর দপ্তরে আজ বৃহস্পতিবার ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরীছবি: সিআইডির সৌজন্যে

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী সদস্য মোতায়েন থাকবেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের নিরাপত্তাব্যবস্থা এমন থাকবে যে ব্যালট বাক্স ছিনতাই করা সম্ভব নয়।’

আজ বৃহস্পতিবার পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সদর দপ্তরে ‘ত্রৈমাসিক অপরাধ পর্যালোচনা ও মতবিনিময় সভা’য় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা এ কথা বলেন। এ ছাড়া আইজিপি বাহারুল আলম সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন। সিআইডি প্রধান মো. ছিবগাত উল্লাহ সভাপতিত্ব করেন।

ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার কথা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, অতীতের জাতীয় নির্বাচনগুলোতে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সাধারণত একজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য থাকতেন। এবারই প্রথম নির্বাচনকালীন নিরাপত্তাব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন এই ব্যবস্থায় প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কমপক্ষে পাঁচজন অস্ত্রধারী সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এর মধ্যে দুজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্য এবং তিনজন অস্ত্রধারী আনসার সদস্য থাকবেন।

মো. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত ভোটকেন্দ্রগুলোতে নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করা হবে। এসব কেন্দ্রে তিনজন অস্ত্রধারী পুলিশ সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মোট ছয়জন সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে অস্ত্রবিহীন (লাঠিসহ) ১০ জন আনসার সদস্য মোতায়েন থাকবেন। এই দলের মধ্যে ছয়জন পুরুষ এবং চারজন নারী আনসার সদস্য থাকবেন।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব, যা শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রত্যেক সদস্যকে সর্বোচ্চ সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদার আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। নির্বাচনপূর্ব, নির্বাচনকালীন ও নির্বাচন-পরবর্তী প্রতিটি ধাপে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের পূর্বে অনলাইনে নানা গুজব ও মিথ্যাচার প্রতিরোধে সিআইডিকে কাজ করতে হবে।

সিআইডি প্রধান ছিবগাত উল্লাহ বলেন, সিআইডির মোট জনবলের ৯০ শতাংশ এই নির্বাচনে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কাজ করবে। নির্বাচনপূর্ব ও পরবর্তী সময়ে অনলাইনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ অন্য প্ল্যাটফর্মগুলোতে সিআইডির সাইবার ইউনিট সর্বোচ্চ দৃষ্টি রাখবে। পাশাপাশি নির্বাচন সুষ্ঠু ও সফল করতে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।