ঢাকার বসুন্ধরায় স্ত্রীকে মারধরের পর চাপাতি দিয়ে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ, স্বামী গ্রেপ্তার
রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্বামীর বিরুদ্ধে মারধর ও হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেছেন স্ত্রী। পুলিশ স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে এ ঘটনা ঘটে।
ওই নারীকে আহত অবস্থায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাঁর স্বামীর নাম মনোয়ার হোসেন ওরফে অপু।
ভাটারা থানার পুলিশ জানায়, মনোয়ার হোসেন স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় নিজের ফ্ল্যাটে থাকেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, গতকাল রাত সাড়ে ১১টার দিকে মনোয়ার হোসেন নেশাগ্রস্ত অবস্থায় বাসায় এসে স্ত্রীকে গালিগালাজ করেন এবং বাসার বিভিন্ন আসবাব ভাঙচুর করেন। স্ত্রী বাধা দিলে তাঁকে মারধর করেন। একপর্যায়ে মনোয়ার রান্নাঘর থেকে চাপাতি এনে স্ত্রীকে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করেন।
আজ শুক্রবার সকালে যোগাযোগ করা হলে স্ত্রী প্রথম আলোকে বলেন, মনোয়ারের হামলা থেকে বাঁচতে প্রাণভয়ে তিনি দুই সন্তান নিয়ে একটি ঘরে ঢুকে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগিয়ে দেন। দু-তিন বছর ধরে মনোয়ার নেশা করে বাসায় ফিরে অশান্তি এবং তাঁকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করেন বলে তিনি জানান।
ওই ভবনের এক বাসিন্দা জানান, গতকাল রাতে বাসার ভেতরে ভাঙচুরের বিকট শব্দ শোনা যায়। প্রতিবেশীরা গিয়েও থামাতে পারেননি। তাঁরা ভাটারা থানায় জানালে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। কিন্তু মনোয়ার দরজা খুলছিলেন না। এ সময় পুলিশ দরজা ভাঙার প্রস্তুতি নিলে মনোয়ার দরজা খুলে দেন। তখন পুলিশ চাপাতিসহ মনোয়ারকে গ্রেপ্তার করে। স্ত্রী ও সন্তানদের উদ্ধার করে। পরে স্ত্রীকে চিকিৎসার জন্য কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ভবনটির একাধিক বাসিন্দা বলেন, নেশাগ্রস্ত মনোয়ার এর আগে ওই ভবনের এক বাসিন্দাকে এবং ভবনটির নিরাপত্তাকর্মীকে চাপাতি দিয়ে কোপানোর চেষ্টা করেছিলেন।
ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম আজ প্রথম আলোকে বলেন, স্ত্রীর করা মামলায় মনোয়ারকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। আজ তাঁকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে।