সেকেন্ডেই মোটরসাইকেলের লক ভেঙে চুরি, সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্তের পর গ্রেপ্তার ৬
বাইরে মোটরসাইকেলটি লক করে আসরের নামাজ পড়তে মসজিদে ঢুকেছিলেন এক ব্যক্তি। বাইরে ওত পেতে ছিল চোর চক্রের সদস্যরা। বিশেষভাবে তৈরি লোহার চাবি দিয়ে মাত্র কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মোটরসাইকেলের লক ভেঙে নিয়ে চম্পট দেয় তারা।
২ অক্টোবর বিকেল সাড়ে চারটার দিকে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের সলিমুল্লাহ রোডের বাইতুর রহমান মসজিদের সামনে এ ঘটনা ঘটে। সম্প্রতি মোটরসাইকেল চুরির সেই সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা গোয়েন্দা পুলিশের নজরে আসে। এরপরই চোর চক্রটিকে শনাক্তে মাঠে নামে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) প্রধান ও অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম জানান, রাজধানীসহ দেশের তিন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে এই আন্তজেলা চোর চক্রের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি লালবাগ বিভাগ। অভিযানে তাঁদের কাছ থেকে চুরি যাওয়া ৯টি মোটরসাইকেল ও লক ভাঙার বিশেষ কৌশলে তৈরি দুটি লোহার চাবি উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া চুরির কাজে ব্যবহৃত একটি অটোরিকশাও জব্দ করা হয়।
এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘চোরাই মোটরসাইকেলগুলো ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হতো।’
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাশেদুল ইসলাম ওরফে রফিক ওরফে রাসেল, মো. আমির ফয়সাল ওরফে রাব্বি, ফয়সাল, সৌরভ, জাহাঙ্গীর আলম ওরফে পাপ্পু ও মোজাম্মেল হক ওরফে মাসুম।
ডিবি লালবাগ বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এরপর সবুজবাগ থানার নন্দীপাড়া ও মাদারটেক এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাসেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর কাছ থেকে লক ভাঙার দুটি বিশেষ চাবি ও একটি চোরাই মোটরসাইকেল পাওয়া যায়।
রাসেলের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে যাত্রাবাড়ীর সাদ্দাম মার্কেট এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাঁর সহযোগী রাব্বিকে। তাঁর কাছ থেকেও একটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
পরে গ্রেপ্তার দুজনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লার লাকসাম থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ও সৌরভকে গ্রেপ্তার এবং চারটি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এরপর নোয়াখালীর চাটখিল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও তিনটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয় পাপ্পু ও মাসুমকে।
চুরি রাজধানীতে, পাঠানো হতো অন্য জেলায়
ডিবি সূত্র জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রাসেল ও রাব্বি জানিয়েছেন, তাঁরা রাজধানীর বিভিন্ন ব্যস্ত স্থান ও মসজিদের সামনে রাখা মোটরসাইকেল লক্ষ্য করে একই কৌশলে সেকেন্ডের মধ্যে লক ভেঙে নিয়ে যেতেন। পরে চুরি করা মোটরসাইকেল কুমিল্লার লাকসামের ফয়সাল ও সৌরভ এবং নোয়াখালীর চাটখিলের পাপ্পু ও মাসুমের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হতো। চক্রের সদস্যরা জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এসব গাড়ি কম দামে বিক্রি করতেন।