এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাসচালক রিমান্ডে, দুজন কারাগারে
ইসমাইল হোসেন (৪৯) নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার পর রাজধানীর বনানীতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ রেখে যাওয়ার ঘটনায় করা মামলায় বাসচালক সোহেল রানার (৪১) চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। মামলার অন্য দুজন আসামি জবানবন্দি দেওয়ায় তাঁদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন পৃথক দুটি আদালত।
আজ রোববার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলামের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোহেল রানার রিমান্ড মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আলবিরুনী মীর ও সিদ্দিক আজাদের আদালত বাসের সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) ও সহকারী (হেলপার) মো. মনির হোসেনকে (১৯) কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন।
এদিন আসামি সোহেল রানাকে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও বনানী থানার এসআই নজরুল ইসলাম তালুকদার। একই সঙ্গে তিনি অন্য দুই আসামি সাজু ও মনিরের জবানবন্দি নেওয়ার আবেদন করেন।
তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনে বলা হয়, সোহেল রানাকে গতকাল শনিবার বেলা দুইটার দিকে রাজধানীর মহাখালী ডেডিকেটেড কোভিড হাসপাতালের সামনে থেকে র্যাবের সহায়তায় গ্রেপ্তার করা হয়। র্যাব ও পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে অপর দুই আসামি সাজু ও মনিরকে গ্রেপ্তার করে। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ‘রাজ ক্ল্যাসিক’ বাসটি জব্দ করা হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বনানী থানায় হস্তান্তর করা হয়।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সোহেল রানা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি স্বীকার করেছেন। হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন, লুট হওয়া পাঁচ লাখ টাকা ও মুঠোফোন উদ্ধার এবং এ ঘটনায় প্রত্যেক আসামির ভূমিকা নির্ধারণ, ঘটনাস্থল শনাক্ত এবং জড়িত অন্যদের পরিচয় শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য সোহেল রানাকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। আদালত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ইসমাইল হোসেন জামালপুরের গ্রামের বাড়ি থেকে গাজীপুরের উদ্দেশে রওনা হন। তাঁর সঙ্গে গ্রামের জমি বিক্রির নগদ পাঁচ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ছিল। ইসমাইলের ছেলে মো. হাসান গাজীপুরের জিরানী বাসস্ট্যান্ডে বাবার জন্য অপেক্ষা করছিলেন। তবে বাবার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়ায় তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
মামলায় আরও বলা হয়েছে, পরে বনানী থানার এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাকলী থেকে কুড়িলগামী অংশের ১৭৯ ও ১৮০ নম্বর পিলারের মধ্যবর্তী সড়কে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে মরদেহের সঙ্গে নগদ টাকা বা গ্রামের বাড়ি থেকে নিয়ে আসা মালামাল পাওয়া যায়নি। পরে স্বজনেরা মরদেহটি ইসমাইল হোসেনের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় বনানী থানায় গত শুক্রবার হত্যা মামলা করেন তাঁর ছেলে মো. হাসান।