চাকরির নামে কম্বোডিয়ায় নারী পাচার ও নির্যাতন, চক্রের হোতা গ্রেপ্তার
কম্বোডিয়ায় উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক নারীকে পাচার, অর্থ আত্মসাৎ ও শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের অভিযোগে মো. রুবেল (২৯) নামের একটি মানব পাচার চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
গত মঙ্গলবার ফরিদপুরের চরভদ্রাসন এলাকা থেকে রুবেলকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি। তাঁর বাড়ি রাজবাড়ী জেলার কালুখালী উপজেলার খাগজানায়।
রুবেলের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর করা মামলার বরাত দিয়ে সিআইডি জানায়, আর্থিক সংকটে থাকা ওই নারী স্থানীয় একটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। ওই এনজিওতে কর্মরত রুবেলের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। একপর্যায়ে রুবেল কম্বোডিয়ায় কাস্টমার কেয়ার সার্ভিসে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে বিদেশে পাঠানোর প্রস্তাব দেন।
ভুক্তভোগীর আর্থিক সামর্থ্য না থাকায় এনজিও থেকে এক লাখ টাকা ঋণ নিতে সহায়তা করেন রুবেল। ঋণের টাকা পাওয়ার পর রুবেল তা নিজের কাছে নিয়ে নেন এবং ভুক্তভোগীর পাসপোর্টও সংগ্রহ করেন। পরে বিদেশে পাঠানোর কথা বলে বিভিন্ন সময়ে আরও অর্থ নেন। ধারদেনা করে ভুক্তভোগী নারী অভিযুক্ত ব্যক্তির দেওয়া ব্যাংক হিসাবে দুই লাখ টাকা জমা দেন। সব মিলিয়ে বিদেশে পাঠানোর নামে তাঁর কাছ থেকে চার লাখ টাকা নেওয়া হয়।
মামলার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ২০২৫ সালের আগস্টে ওই নারীকে কম্বোডিয়ায় পাঠানো হয়। সেখানে পৌঁছানোর পর চক্রের অন্য সদস্যরা তাঁর পাসপোর্ট ও সঙ্গে থাকা অর্থ জোর করে কেড়ে নেন। এরপর তাঁকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করে অনিচ্ছাকৃত কাজ করানো হয় এবং তাঁর উপার্জিত অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, একপর্যায়ে ওই নারীকে বিভিন্ন অবৈধ কর্মকাণ্ডে জড়ানোর চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হলে তাঁর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়। পরে ওই নারী দেশে ফিরতে চাইলে প্রাণনাশসহ অন্য দালালের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে ভুক্তভোগী দেশে ফেরার চেষ্টা করেন। ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের ব্র্যাক মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টার এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও মানবিক সংস্থার সহায়তায় ওই নারী ১ জুলাই বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দেশে ফিরে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।
সিআইডি জানায়, ভুক্তভোগীর দেওয়া তথ্য, সাক্ষ্যপ্রমাণ, নথিপত্র এবং গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ করে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় প্রধান অভিযুক্ত রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে মানব পাচার চক্রের অন্যান্য সদস্য, আর্থিক লেনদেন, বিদেশে অবস্থানরত সম্ভাব্য ভুক্তভোগী এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে এই সংঘবদ্ধ আন্তর্দেশীয় চক্রের মাধ্যমে আরও কোনো বাংলাদেশি একইভাবে পাচার বা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন কি না, তা–ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।