এক বছরে বিজিবির অভিযানে বিপুল অস্ত্র উদ্ধার, ১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকার চোরাচালান পণ্য জব্দ
সীমান্ত এলাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০২৫ সালজুড়ে অভিযান চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ৯০৮ কোটি ২৮ লাখ টাকা দামের বিভিন্ন ধরনের চোরাচালান পণ্য ও অস্ত্র জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। একই সময়ে মাদক পাচার, চোরাচালান ও অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপারের অভিযোগে ১৪ হাজারের বেশি ব্যক্তিকে আটক করা হয়েছে।
সোমবার বিজিবির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত চালানো অভিযানে উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে ৬৪টি পিস্তল, ২টি এসএমজি, ১০টি রাইফেল, ৩টি রিভলবার, ৫৬টি বিভিন্ন ধরনের গান, ১৯টি হ্যান্ড গ্রেনেড, ৮টি মর্টার শেল, ৪টি মাইন ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ। এ ছাড়া ১ হাজার ৫০৯টি গুলি, ৫৭টি ম্যাগাজিন, ৭৩ হাজার ১০০টি সিসার গুলি, ২০ দশমিক শূন্য ৫ কেজি গানপাউডার, ৭৯টি হাতবোমা, ৪০টি পেট্রলবোমা ও ১৭৮টি ককটেল জব্দ করা হয়।
জব্দ করা অন্যান্য চোরাচালান পণ্যের মধ্যে রয়েছে ৬০ কেজি ৫৫৬ গ্রাম সোনা, ১৬৮ কেজি ২৪১ গ্রাম রুপা, ৯৮ হাজার ৭০৬টি ইমিটেশন গয়না, ১ লাখ ৭১ হাজার ১৯০টি শাড়ি, ১ লাখ ২৬ হাজার ৭৭৯টি থ্রি–পিস, শার্টের পিস, চাদর ও কম্বল, ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৮টি তৈরি পোশাক, ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭১ মিটার থানকাপড় ও ৬৮ লাখ ৭৬ হাজার ৬১১টি কসমেটিকসসামগ্রী।
এ ছাড়া জব্দ পণ্যের তালিকায় রয়েছে ২ কোটি ৭ লাখ ৪৬ হাজার ১৪৪টি আতশবাজি, ১১ লাখ ৬৫ হাজার ৪৮৯ কেজি চিনি, ৩৭ হাজার ৬১৮ কেজি চা-পাতা, ৩ লাখ ৫ হাজার ৪৩৮ কেজি পেঁয়াজ, ২ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৩ কেজি জিরা, ১ লাখ ৪০ হাজার ২৭৪ ঘনফুট কাঠ এবং ১৩টি কষ্টিপাথরের মূর্তি। গত বছর বিজিবি ৯ হাজার ১৩টি মোবাইল ফোন, ১ হাজার ৭০৮টি বিভিন্ন ধরনের যানবাহন এবং ১২ হাজার ২৯৪টি গরু-মহিষও জব্দ করেছে।
একই সময়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দ করে বিজিবি। এর মধ্যে রয়েছে ১ কোটি ৪৭ লাখ ১৪ হাজার ২৯৮ পিস ইয়াবা, ১০ কেজি ৪০৮ গ্রাম ক্রিস্টাল মেথ আইস, ১ লাখ ৩৩ হাজার ৩৯৬ বোতল ফেনসিডিল, ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৪৬ বোতল বিদেশি মদ, ২২ হাজার ১৩৭ কেজি গাঁজা, ৫৫ কেজি ৬৩৬ গ্রাম হেরোইন, ১৩ কেজি ৬৪৭ গ্রাম কোকেন।
বিজিবি জানায়, গত বছর মাদক পাচার ও অন্যান্য চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে ২ হাজার ৩৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে। এ ছাড়া অবৈধভাবে সীমান্ত অতিক্রমের দায়ে ৪ হাজার ২৩৮ জন বাংলাদেশি, ১২৪ জন ভারতীয় এবং ৭ হাজার ৩৬৮ জন মিয়ানমারের নাগরিককে আটক করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।