আমদানির আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগ, ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আমদানির আড়ালে অর্থ পাচারের অভিযোগে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামের একটি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বুধবার সিআইডির এক কর্মকর্তা বাদী হয়ে রাজধানীর গুলশান থানায় এ মামলা করেন।

আসামিরা হলেন আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম, ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আজিমুল ইসলাম এবং স্বাধীন পরিচালক রফিকুল ইসলাম, তানিম নোমান সাত্তার ও আজহারুল ইসলাম।

বৃহস্পতিবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা রাজধানীর গুলশান অ্যাভিনিউর এক্সপোর্ট ইমপোর্ট ব্যাংক অব বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের করপোরেট শাখা থেকে ছয়টি এলসি/সেলস কনট্রাক্ট দিয়ে ৫৬টি ইএক্সপি গ্রহণ করেন। এর বিপরীতে রেডিমেড গার্মেন্ট পণ্য রপ্তানি করে নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও রপ্তানিমূল্য প্রত্যাবাসন করেননি বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে সত্যতা পাওয়া গেছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ঘোষণাকৃত পণ্যের তুলনায় কম বা ভিন্ন পণ্য আমদানি করে প্রায় ২৮ কোটি ৪০ লাখ ৮৮ হাজার ৮১৪ ডলারের সমপরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ পাওয়া যায়। এ অর্থ বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা লঙ্ঘন করে বিদেশে স্থানান্তর করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের নিবন্ধিত কার্যালয় ও কারখানা–সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, আমদানিসংক্রান্ত কাগজপত্র, এলসি ডকুমেন্ট, ব্যাংক হিসাব বিবরণী ও অন্যান্য আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করে অনিয়মের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সিআইডির অনুসন্ধানে দেখা গেছে, আমদানি করা পণ্যের মূল্য ও পরিমাণে গরমিল দেখিয়ে বৈদেশিক মুদ্রার অপব্যবহার ও অর্থ পাচারের মাধ্যমে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতি করা হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও প্রাপ্ত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আলিফ ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের চেয়ারম্যান, ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট পরিচালক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করা হয়। মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করছে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অপরাধের পূর্ণাঙ্গ তথ্য উদ্‌ঘাটন, অজ্ঞাতপরিচয় অন্য সদস্যদের শনাক্ত করা এবং অন্যান্য আইনানুগ প্রক্রিয়ার স্বার্থে সিআইডির তদন্ত ও অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। অর্থ পাচার ও আর্থিক অপরাধ দমনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে সিআইডি। এ ধরনের অপরাধে জড়িত যে কাউকে আইনের আওতায় আনতে সিআইডির অনুসন্ধান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।