গুলশানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল: আরও ৯ আসামি কারাগারে

ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতফাইল ছবি

সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে রাজধানীর গুলশানে ঝটিকা মিছিল করার অভিযোগে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের আরও ৯ আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

১১ সেপ্টেম্বরের ওই ঝটিকা মিছিলের মধ্য দিয়ে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার পাশাপাশি নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্য ছিল অভিযোগ করে গুলশান থানায় মামলা করেন উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মাহবুব হোসাইন। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা এই মামলায় ১১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয় ৮০ থেকে ১০০ জনকে।

এখন পর্যন্ত এ মামলায় ৮৩ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ২৪ জনকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রুহুল আমিন আজ সর্বশেষ গ্রেপ্তার ৯ আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষ জামিনের আবেদন করলে রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করে।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাঁদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক মোক্তার হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

কারাগারে যাওয়া আসামিরা হলেন বিল্লাল গাজী (৩৫), ইসমাঈল সিরাজী (৩২), মো. আরিফুর রহমান দিপু (২৭), মো. ইদ্রিসুল আলম (৫৫), জয়নাল আবেদীন মামুন (৫০), জয়ন্ত কুমার বাড়ৈ (৪৩), চিত্ত হক (৭৫), নিরব খান (২২) ও মো. সোহেল (৩০)। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠন এবং নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মী।

মামলার এজাহারে বলা হয়, নির্বাচিত সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা এবং নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির উদ্দেশ্যে আওয়ামী লীগ, এর সহযোগী সংগঠন ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা ১১ সেপ্টেম্বর দুপুর পৌনে ১২টার দিকে গুলশান থানা এলাকায় সমবেত হন। এ সময় তাঁরা সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তাঁরা গুলশান ও আশপাশ এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেন। পুলিশ তাঁদের ছত্রভঙ্গ করতে গেলে তাঁরা পুলিশকে লক্ষ্য করে ককটেল নিক্ষেপ করেন। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ দুটি রাবার বুলেট ছুড়লে তাঁরা পালিয়ে যান। ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি তাজা ককটেল জব্দ করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার এসআই মো. রুহুল আমিন প্রথম আলোকে বলেন, তদন্তে সংশ্লিষ্টতা পাওয়ার পর গতকাল রোববার গুলশান বিভাগের বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সর্বশেষ ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।