যাত্রাবাড়ীর ফ্ল্যাটে নারীর মরদেহ, পাঁচ দিন পর গ্রেপ্তার সন্দেহভাজন খুনি
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বহুতল একটি ভবনের ফ্ল্যাটে শাহিদা আক্তার (৬৮) নামের এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। চুরি করা হয়েছিল তাঁর স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান মালামাল। এর পাঁচ দিনের মাথায় পুলিশ সন্দেহভাজন হিসেবে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
থানা–পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থল পাওয়া আলামত, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করার পর ফারুক (২৭) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। ফারুক পেশায় নির্মাণশ্রমিক।
গতকাল বুধবার রাজধানীর মীর হাজিরবাগ এলাকা থেকে গ্রেপ্তার হন ফারুক। তাঁর দেখানো জায়গা থেকে হত্যায় ব্যবহৃত কাঁচি আর চুরি হওয়া কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে।
যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশের ভাষ্য, ভুক্তভোগী নারীর পাশের ফ্ল্যাটে নির্মাণশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন ফারুক। সেই সুবাদে ওই নারীর বাসার পরিবেশ আর পরিবারের সদস্যদের প্রতিদিনের চলাফেরা সম্পর্কে তাঁর ধারণা ছিল।
এর আগে ১১ জুলাই দনিয়া রসুলপুর নগর ভবন-সংলগ্ন একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাটে শাহিদা আক্তারকে হত্যা করা হয়। ওই বাসা থেকে স্বর্ণালংকার, ইমিটেশনের গয়না এবং অন্যান্য মূল্যবান মালামাল চুরি হয়ে যায়।
এ ঘটনায় নিহত নারীর মেয়ে পারভীন আক্তার বাদী হয়ে যাত্রাবাড়ী থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত শুরু করে ঘটনাস্থলের আলামত সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে পুলিশ। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা নেওয়া হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় অভিযুক্ত ফারুককে শনাক্ত করা হয়।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুকের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত একটি কাঁচি উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা হয়েছে এক জোড়া ইমিটেশনের বালা, তিনটি হার, এক জোড়া নূপুর ও বিদেশি মুদ্রা।
প্রাথমিক তদন্তের পরিপ্রেক্ষিতে নিয়াজ মেহেদী জানান, ঘটনার দিন সুযোগ বুঝে ফারুক ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। এরপর ধারালো কাঁচি দিয়ে শাহিদা আক্তারকে আঘাত করে হত্যা করেন। পরে তিনি আলমারিতে থাকা স্বর্ণালংকার, ইমিটেশনের গয়না ও অন্যান্য মূল্যবান মালামাল নিয়ে পালিয়ে যান।
যাত্রাবাড়ী থানার পুলিশ জানায়, হত্যা মামলাটির তদন্ত অব্যাহত আছে। ফারুকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।