এমন ফাঁদে পড়ে অনেক গ্রাহক ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের সব তথ্য প্রতারক চক্রের সদস্যদের দিয়ে দিতেন। এভাবে বিভিন্ন গ্রাহকের কাছ থেকে একটি চক্র কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

এই চক্রের মূলহোতাকে গ্রেপ্তারের দাবি করে আজ সোমবার মালিবাগের সিআইডি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সিআইডি।

সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর সংবাদ সম্মেলনে বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে একটি প্রতারক চক্র বিকাশ কর্মকর্তার পরিচয় দিয়ে কৌশলে সাধারণ মানুষের ডেবিট ও ক্রেডিট কার্ডের তথ্য নিয়ে বিপুল অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়।

একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের ভিত্তিতে সিআইডি অভিযান পরিচালনা করে আজ নারায়ণগঞ্জ এলাকা থেকে খোকন ব্যাপারী ওরফে জুনায়েদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

ছয়ধাপে প্রতারণা

চক্রটি ছয়টি ধাপে প্রতারণার কাজটি করে বলে জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।

প্রথম ধাপে, প্রতারক বিকাশ কর্মকর্তা হিসেবে ভিকটিমকে ফোন দিয়ে অ্যাকাউন্ট আপডেট করার জন্য বলে আর অ্যাকাউন্টটি আপডেট না করলে স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাবে বলে জানায়।

দ্বিতীয় ধাপে, প্রতারক প্রতারণার শিকার ব্যক্তির ব্যবহৃত বিকাশ অ্যাকাউন্টটিতে ভুল পাসওয়ার্ড তিনবারের বেশি দেয়। এর ফলে তাঁর অ্যাকাউন্টটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত হয়ে যায়।

তৃতীয় ধাপে, প্রতারক ব্যক্তিকে জানাতেন, তাঁর অ্যাকাউন্টটি সাময়িকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে এবং অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা ব্লক হয়েছে। এই ব্লক করা টাকা ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডে ট্রান্সফার করা সম্ভব।

চতুর্থ ধাপে, প্রতারক প্রতারণার শিকার ব্যক্তির ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের নম্বর এবং সিভিএন জানতে চায়।

পঞ্চম ধাপে, প্রতারণার শিকার ব্যক্তি এসব তথ্য সরবরাহ করলে ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ডের সংশ্লিষ্ট ব্যাংককে যে মুঠোফোন নম্বর সরবরাহ করে সেই মোবাইল নম্বরে একটা ওটিপি কোড–সংবলিত একটি ম্যাসেজ যায়।

ষষ্ঠ ধাপে, ব্যক্তি মেসেজটি রিসিভ করার পর সেই কোডটি প্রতারক জানতে চায়। কোডটি প্রতারক ভিকটিমের কাছ থেকে পাওয়ার পর ভিকটিমের ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড থেকে সর্বোচ্চ পরিমাণ টাকা প্রতারক তার নিজের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ট্রান্সফার করে।

default-image

সিআইডি কর্মকর্তা মুক্তা ধর বলেন, খোকনের নেতৃত্বে তিন থেকে চার সদস্যের একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্র পাঁচ থেকে ছয় বছর ধরে প্রতারণা করছিল। খোকন দুটি ফেসবুক পেজ খুলে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বন্ধু হওয়ার অনুরোধ পাঠাতেন। তাঁদের আর্থ-সামাজিক অবস্থা বুঝে মুঠোফোন নম্বর সংগ্রহ করে লক্ষ্যবস্তু বানাতেন।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন