এ হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর খুনের আদ্যোপান্ত বেরিয়ে আসে বলে তদন্ত সংশ্লিষ্ট পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন। পিবিআই জানায়, গত বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি কাশিয়ানীর কুসুমদিয়া এলাকার একটি ঝোপ থেকে শিশু সুমার রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় ছয়জনকে আসামি করে কাশিয়ানী থানায় হত্যা মামলা করেন মিজানুর শেখ। মামলাটি প্রথমে থানা-পুলিশ তদন্ত করে দুজনকে আসামি করে অভিযোগপত্র দেয়। বাদীর নারাজি আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তভার আসে পিবিআইয়ের কাছে। তদন্তে নেমে পিবিআই খুনে সরাসরি জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করে।

তিন আসামি গ্রেপ্তারের সময় এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন পিবিআইয়ের পরিদর্শক মোশাররফ হোসেন। তিনি এখন ঢাকা জেলা পিবিআইতে কর্মরত। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মামলার বাদী মিজানুর শেখ ও মূল পরিকল্পনাকারী আজিজ মোল্ল্যা একই এলাকার বাসিন্দা। তাঁরা একই সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় গরু চুরি করতেন। চুরি করা গরু বিক্রির টাকা ভাগাভাগির দ্বন্দ্ব থেকেই শিশুটিকে খুনের পরিকল্পনা করা হয়। মূলত বাবার প্রতি ক্ষোভ থেকেই শিশুটিকে হত্যা করা হয়।

পিবিআইয়ের একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন আজিজ মোল্ল্যা। তাঁকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। গ্রেপ্তার তিনজনের মধ্যে সামাদ শেখ ও হাসিব শেখ আজিজ মোল্ল্যার অন্যতম সহযোগী। গ্রেপ্তার অপর আসামি মৃণাল শেখ আজিজ মোল্ল্যার ভগ্নিপতি। তিনি হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। তাঁর জবানবন্দিতে হত্যায় জড়িত নিজাম শেখ, নূর মোহাম্মদ ও দুলু নামের আরও তিনজনের কথা উঠে এসেছে। তাঁরা তিনজনই পলাতক।

এ মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা গোপালগঞ্জ জেলা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আমিরুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ খুনের ঘটনায় জড়িত কয়েকজন আসামিকে গ্রেপ্তার করা এখনো সম্ভব হয়নি। তাঁদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্ত শেষ করে শিগগিরই আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মৃণাল শেখের জবানবন্দি

মৃণাল শেখ তাঁর জবানবন্দিতে বলেছেন, শিশু সুমা খুনের ঘটনায় তিনিসহ ছয়জন অংশ নিয়েছিলেন। তিনি (মৃণাল) ও তাঁর চাচাতো ভাই নিজাম শেখ শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে এ ঘটনায় জড়িয়ে পড়েন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলা সদরে। দুজনেই বিয়ে করেছেন কাশিয়ানীর চাপ্তা গ্রামে। ঘটনার দিন মৃণালের শ্যালক আজিজ মোল্ল্যা কাজ আছে বলে দুজনকে ডেকে চাপ্তা রেলস্টেশনে নিয়ে যান। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন হাসিব, সামাদ, নূর মোহাম্মদ ও দুলু।

রেলস্টেশনে যাওয়ার পর সামাদ বলেন, “‘মিজানুর আমাদের গরু চুরির ৮০ হাজার টাকা মেরে দিছে। মিজানুরের মেয়েকে খুন করে উচিত শিক্ষা দেব। জামাই (মৃণাল) তুমি আমাদের সঙ্গে থাকো। তোমাকে ও নিজামকে ২০ হাজার টাকা দেওয়া হবে।” পরিকল্পনা অনুযায়ী সুমাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে আসেন নূর মোহাম্মদ। শিশুটিকে নিয়ে আসার পর হাসিব তার মুখে গামছা বেঁধে কোলে করে কুসুমদিয়া এলাকার ঝোপে নিয়ে যান।’

এরপর আজিজ মোল্যা, সামাদ শেখ, হাসিব, নিজাম, দুলু ও তিনি মিলে শিশুটিকে হত্যা করেন। পরদিন মৃণাল ও নিজামকে বাসায় ডেকে তিন হাজার করে মোট ছয় হাজার টাকা দেন সামাদ শেখ। বাকি ১৪ হাজার টাকা পরে দেওয়ার কথা বলেছিলেন তিনি।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন