ডেকে নিয়ে আড্ডা-খাওয়া, এরপর নির্যাতন, তরুণের মৃত্যু

মরদেহপ্রতীকী ছবি

ডেকে নিয়ে আড্ডা, খাওয়া, এরপর কথা–কাটাকাটি থেকে নির্যাতন। সেই নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে দুই দিন পর জিহাদ হোসেন (২০) নামের একজনের মৃত্যু হয়েছে আজ বুধবার। আর নীরব হোসেন (২০) নামের আরেক তরুণ আহত হয়েছেন।

পুলিশ জানায়, গত সোমবার দিবাগত রাতে রাজধানীর রায়েরবাজার ক্যানসার গলিতে এই নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। নিহত জিহাদ হোসেন রায়েরবাজারে মুঠোফোন মেরামতের একটি দোকানে কাজ করতেন।

হাজারীবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশাররফ হোসেন বলেন, জিহাদ হোসেন ও নীরব হোসেন পরিবারের সঙ্গে হাজারীবাগ এলাকায় থাকেন। জুয়া খেলায় জেতা উপলক্ষে পার্টি দেওয়ার কথা বলে সোমবার রাতে নীরবকে ফোন দেন জাহিদ নামের এক ব্যক্তি। তাঁকে রায়েরবাজারের ক্যানসার গলিতে যেতে বলেন তিনি। যাওয়ার পথে হাজারীবাগের বাগানবাড়ি এলাকা থেকে জিহাদ হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে যান নীরব। নীরব, জিহাদ ও জাহিদ তিনজনই পূর্বপরিচিত। রাত একটার দিকে ক্যানসার গলিতে যাওয়ার পর তাঁরা একটি তিনতলা ভবনের ছাদে যান। সেখানে তাঁরা মাদক সেবন করেন ও খাবার খান। একপর্যায়ে তাঁদের মধ্যে কথা–কাটাকাটি শুরু হয়। সেখান থেকে নীরব ও জিহাদ হোসেনকে মারধর শুরু করেন জাহিদ। এমনকি জাহিদ সঙ্গে আরও দুজনকে ডেকে নিয়ে আসেন। রাতভর নির্যাতনের পর নীরবের পরিবারকে ফোন করে ১০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন জাহিদ। টাকা পেয়ে পরদিন সকাল ১০টার দিকে নীরবকে ছেড়ে দেন তাঁরা। আর অচেতন জিহাদকে একটি রিকশায় করে বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যান।

জিহাদের ফুফাতো ভাই শহীদ মিয়া বুধবার সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, সোমবার রাতে জিহাদ বাড়িতে না ফেরায় পরদিন সকাল থেকেই তাঁরা খোঁজাখুজি শুরু করেন। দুপুরে তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় পাওয়ার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তাঁরা। মারধরে জিহাদের সারা শরীর থেঁতলে গিয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়ার অবস্থা তৈরি হয়। কিন্তু সেখানে আইসিইউ ফাঁকা না থাকায় মঙ্গলবার রাতেই তাঁকে উত্তরা জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ তাঁর মৃত্যু হয়েছে।

মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল হালিম প্রথম আলোকে বলেন, জিহাদের বাসা হাজারীবাগে হলেও ঘটনাস্থল মোহাম্মদপুর থানায় পড়েছে। নীরবের বিরুদ্ধে মোহাম্মদপুর থানায় আগের একটি ছিনতাইয়ের মামলা আছে। প্রাথমিকভাবে মাদকসংক্রান্ত বিরোধ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে তাঁদের ধারণা।