সাভারে এসআই আলতাব হত্যা মামলা: গ্রেপ্তার আরও ৩ আসামি পাঁচ দিনের রিমান্ডে
সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাব হোসেনকে (৫৮) পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় গ্রেপ্তার আরও তিন আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ বুধবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তামান্না এ আদেশ দেন।
রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া তিন আসামি হলেন রাকিব মিয়া (২৮), সাব্বির আহম্মেদ (২৪) ও মো. ওয়াসিম (৪০)।
আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই আবু বকর সিদ্দিক প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, এ মামলায় আজ তিনজনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে। আরও দুই আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আগামীকাল তাঁদের রিমান্ড শুনানি আছে।
পুলিশের করা রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, অজ্ঞাতনামা আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে বাদীর স্বামীকে হত্যা করে ফেলে চলে যায়। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত, ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্র উদ্ধার এবং জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা একান্ত প্রয়োজন। শুনানি চলাকালে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদন বাতিল চেয়ে আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামিদের রিমান্ডের আদেশ দেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জাকির আল আহসান প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় মোট ১৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। আজ তিনজনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
যেভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটে
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে সাভারের বড়দেশী পশ্চিম পাড়ায় একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে অটোরিকশা রাখা নিয়ে তর্কাতর্কি শুরু হয়। তা থামাতে গিয়ে আসামিদের তোপের মুখে পড়েন পুলিশ সদস্য আলতাব হোসেন। একপর্যায়ে আত্মরক্ষার্থে তিনি তাঁর ছেলে আরিফুল ইসলামের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান গ্র্যান্ড ফ্যাশনে আশ্রয় নেন।
পরবর্তী সময়ে রাত আটটার দিকে আসামিরা দেশি অস্ত্র নিয়ে সেখানে হামলা চালান। তাঁরা রড, পাইপ, হাতুড়ি ও লাঠি দিয়ে আলতাব হোসেনকে পিটিয়ে গুরুতর জখম করেন। এ সময় বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে আরিফুলও আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় আলতাব হোসেনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত আলতাব হোসেনের স্ত্রী মোছা. শিউলী পারভীন বাদী হয়ে সাভার থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।