তবে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত সন্দেহে ৯জনকে গ্রেপ্তার করেছিল সিআইডি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাঁদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণ জোগাড় করতে পারেনি সংস্থাটি। ফলে মামলা থেকে ৯জনকে অব্যাহতি দিতে ২০১৯ সালের জানুয়ারি মাসে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয় সিআইডি। যদিও আদালত চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করেনি। আরও তদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন আদালত।

পিবিআইও প্রায় তিন বছর তদন্ত করে স্বর্ণ চোরাচালানে জড়িত কাউকে শনাক্ত করতে পারেনি। গত জুনে পিবিআই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। তবে এখনো এর ওপর শুনানি হয়নি।

সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা কুয়ালালামপুর বিমানবন্দরের বোর্ডিং ব্রিজের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের চেষ্টা করি। কিন্তু তা পাওয়া যায়নি। এ জন্য আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি।’

মামলার নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মালিন্দো এয়ারের ওই উড়োজাহাজের ২৪-এ, ২৪-বি, ২৬-ই ও ২৬-এফ সিটের পেছনে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ছিল ৩২ দশমিক ৬২ কেজি স্বর্ণ। এসব সিটে কোনো যাত্রী ছিলেন না।

সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, মালিন্দো এয়ারের ওই ফ্লাইটের সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম এবং যাত্রীদের ঠিকানা চেয়ে সিভিল অ্যাভিয়েশন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়েছিল তারা। তবে ছয় মাসের বেশি সময় পর নথি সংরক্ষণ করা হয় না বলে সিআইডিকে জানায় সিভিল অ্যাভিয়েশন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপপরিদর্শক মো. আলমগীর শরীফ বলেন, ‘বহু চেষ্টা করেও প্রকৃত স্বর্ণ চোরাচালানিদের গ্রেপ্তার করতে পারিনি।’

পরে পিবিআই তদন্ত করতে গিয়ে ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে বাংলাদেশ বিমানের মেকানিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্ট ঝন্টু চন্দ্র বর্মণকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিল। পিবিআইয়ের পক্ষ থেকে আদালতকে জানানো হয়, স্বর্ণ চোরাচালানিদের সঙ্গে ঝন্টুর আঁতাত থাকতে পারে। তবে ঝন্টু ঘটনায় জড়িত থাকার কথা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেননি।

স্বর্ণ চোরাচালানের এত বড় ঘটনার তদন্তে সিআইডি ও পিবিআইয়ের ব্যর্থতাকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি (অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর) তাপস কুমার পাল।

অপরাধ থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন