অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা
সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণ পেছাল, পরবর্তী তারিখ ১০ সেপ্টেম্বর
অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য গ্রহণের তারিখ পিছিয়ে আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পুনর্নির্ধারণ করেছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে মামলাটির সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য ছিল। তবে এদিন কোনো সাক্ষী আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় বিচারক পরবর্তী সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য নতুন এই দিন ধার্য করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী আরিফুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ১৬ জুলাই আদালতে সাক্ষ্য দেন বস্ত্র অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (কারিগরি) মো. ফয়সাল কবির। এ মামলায় মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। ২০২৪ সালে গণ–অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার কয়েক মাস আগে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তদন্তে নামে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। অভিযোগ ওঠার পরই তিনি দেশ ত্যাগ করেন।
ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর দুদকের উপপরিচালক হাফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে এ মামলা করেন। তদন্ত শেষে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, সম্পদের তথ্য গোপন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা হাফিজুল ইসলাম। আদালত অভিযোগপত্রটি আমলে নিয়ে বেনজীরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। পরবর্তী সময়ে তিনি আদালতে হাজির না হওয়ায় গত ৩ মে তাঁর অনুপস্থিতিতেই অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, বেনজীর আহমেদ দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৬ কোটি ৪৫ লাখ ৩৭ হাজার ৩৬৫ টাকার স্থাবর এবং ৫ কোটি ৭৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৬৬ টাকার অস্থাবর সম্পদের ঘোষণা দেন। তবে তদন্তে তাঁর নামে ৭ কোটি ৫২ লাখ ৬৮ হাজার ৯৮৭ টাকার স্থাবর এবং ৮ কোটি ১৫ লাখ ৩১ হাজার ২৬৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ থাকার তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। এর বিপরীতে তাঁর বৈধ আয় ছিল ৬ কোটি ৫৯ লাখ ৪২ হাজার ৬৬৮ টাকা। ব্যয় বাদে তাঁর নিট সঞ্চয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৬৩ লাখ ৫৬ হাজার ৬৭৫ টাকা। ফলে বেনজীর আহমেদ জ্ঞাত আয়বহির্ভূতভাবে মোট ১১ কোটি ৪ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন বলে দুদকের তদন্তে প্রতীয়মান হয়।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লেখ করা হয়, সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর এসব অবৈধ অর্থের উৎস, প্রকৃতি ও মালিকানা গোপন করতে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যৌথ মূলধনি কারবারে বিনিয়োগ, স্থানান্তর ও রূপান্তর করেছেন।