ডেমরায় বোমাসহ গ্রেপ্তার ‘দাওলাতুল ইসলামের’ দুই সদস্য রিমান্ডে

গ্রেপ্তার আরিফ চৌধুরী (বাঁয়ে) ও জুয়েল ভূঁইয়া (ডানে)ছবি: পুলিশের সৌজন্যে।

রাজধানীর ডেমরা থানা এলাকা থেকে জঙ্গি সন্দেহে গ্রেপ্তার ‘দাওলাতুল ইসলামের’ দুই সদস্যকে পৃথক মেয়াদে রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।

আজ সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলমের আদালত পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মহিন উদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আদালত জুয়েল ভূঁইয়াকে (২৭) তিন দিন এবং আরিফ চৌধুরীকে (২৪) দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। এদিন আদালতে আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী ছিলেন না।

এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অ্যান্টিটেররিজম ইউনিটের (এটিইউ) এসআই মো. রফিকুল ইসলাম সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা মামলায় দুই আসামিকে আদালতে হাজির করেন। আসামি জুয়েলকে ১০ দিন এবং আরিফকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন তিনি।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গতকাল রোববার বিকেলে এটিইউ গোপন তথ্যের ভিত্তিতে জানতে পারে, জননিরাপত্তা বিঘ্নিত ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার উদ্দেশ্যে বিস্ফোরক দ্রব্যসহ ডেমরার সারুলিয়া এলাকায় কয়েকজন অবস্থান করছেন। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সারুলিয়ার পশ্চিম বক্সনগর নিঝুমবাগ এলাকার গরিবের নেওয়াজ মসজিদ রোডে ৬৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি চায়ের দোকানের সামনে তাঁদের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। সেখানে অভিযান চালিয়ে জুয়েল ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় আরিফ চৌধুরী পালানোর চেষ্টা করলে ৮-১০ গজ দূরে গিয়ে তাঁকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামিদের কাছ থেকে কালো স্কচটেপ দিয়ে মোড়ানো দুটি তাজা ডেটোনেটর বোমা উদ্ধার করা হয়। বোমা দুটি জননিরাপত্তার জন্য হুমকি হওয়ায় ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করে।

এ ঘটনায় এটিইউর উপপরিদর্শক (এসআই) পলাশ আলী বাদী হয়ে ডেমরা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

এসআই পলাশ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘অভিযানে আমরা দুজনকে গ্রেপ্তার করতে পারি। তাঁদের থেকে তাজা দুইটা বোমা উদ্ধার করা হয়।’

তদন্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা নিজেদের ‘দাওলাতুল ইসলামের’ সক্রিয় সদস্য বলে স্বীকার করেছেন। সংগঠনের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করা, দেশকে অস্থিতিশীল করা এবং নাশকতা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনার উদ্দেশ্যেই তাঁরা ঘটনাস্থলে একত্র হয়েছিলেন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।