মিরপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্র ভাঙচুরের ঘটনায় আরও দুজন গ্রেপ্তার

গ্রেপ্তারপ্রতীকী ছবি

রাজধানীর মিরপুরে মা ও শিশুস্বাস্থ্য কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাঁদের কাছ থেকে লুট হওয়া কিছু মালামালও উদ্ধার করা হয়েছে।

গতকাল রোববার রাতে অভিযান চালিয়ে কেরানীগঞ্জের গুদারাঘাট থেকে এ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে শাহ আলী থানার পুলিশ। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মিন্টু (৩৫) ও মো. মিলন (৪০)। এ নিয়ে ভাঙচুরের ঘটনায় ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হলো।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ওই দিন রাতে ভাঙচুরে অংশ নিয়েছিলেন। ভাঙচুর শেষে তাঁরা মালামাল লুট করে নিয়ে যান। দুজনের মধ্যে মিন্টুর কাছ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের টিনসহ কিছু মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। আর মিলনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে স্টিলের দরজা। এসব মালামাল জব্দ করা হয়েছে।

এর আগে ভাঙচুরে জড়িত থাকার অভিযোগে শুক্রবার রাতে মো. সোহেল (২২), মো. জুয়েল (২৩), জিহাদ হাসান (২১) ও মো. রাব্বি (২০) নামের চার তরুণকে গ্রেপ্তার করে শাহ আলী থানার পুলিশ। পুলিশ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুয়েল শাহ আলী বাগের করলাপাড়ায় থাকতেন। অন্য তিনজন শাহ আলী মাজার এলাকার ভাসমান তরুণ। তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য, টাকার বিনিময়ে তাঁরা ভাঙচুরে অংশ নেন।

এরপর শনিবার সন্ধ্যায় গ্রেপ্তার হয় ছয়জন। তাঁরা হলেন মো. শাহাদাত হোসেন (৩৩), কাজী মকবুল হোসেন (৫৮), মো. শাহ আলম (৫৩), মো. আতিকুর রহমান (৩৩), মো. কামরুল ইসলাম (৫২) ও মো. শাকিল (২০)। তাঁদের মধ্যে পাঁচজনকে শাহবাগ থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)। অন্যজনকে শাহ আলী থেকে গ্রেপ্তার করে থানা-পুলিশ। গতকাল রোববার আদালতের মাধ্যমে তাঁদের কারাগারে পাঠানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, দারুসসালাম থানার বেড়িবাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের লুট হওয়া আসবাব, টিকা, রেজিস্টার খাতা, ফ্রিজ, অফিসের কাগজপত্র, প্রিন্টার, জেনারেটরসহ ৪৬ ধরনের মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে। মালামাল বহনকারী দুটি কাভার্ড ভ্যানও আটক করা হয়।

তদন্ত–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে কারা এক্সক্যাভেটর এনেছিলেন এবং নেতৃত্বে কে বা কারা ছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদের গ্রেপ্তার ও এক্সক্যাভেটর উদ্ধারে অভিযান চলছে।

২৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর মিরপুর ১-এর রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে নিরাপত্তাকর্মীদের বেঁধে রেখে ভাঙচুর ও লুটপাট চালানো হয়। মুখোশ পরা দুই শতাধিক ব্যক্তি দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সেখানে ঢুকে প্রথমে দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে। এরপর মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট করে নিয়ে যায়। পরে ভারী যন্ত্রপাতি দিয়ে একটি পাকা, তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। ‘সমমনা দোকানদার সমবায় সমিতি লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যানারে এ ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এতে এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারের নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার। এ ঘটনায় বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় মামলা করেছেন তিনি।