পেনশনের নামে সরকারি টাকা আত্মসাৎ: অস্বাভাবিক সব বকেয়া লেনদেন অধিকতর যাচাইয়ে নতুন কমিটি

সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পেনশনের টাকা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা নিয়ে আজ রোববার প্রথম আলোতে এই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়

সশস্ত্র বাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের পেনশনের টাকা নিয়ে জালিয়াতির ঘটনায় এবার ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) চালুর সময় থেকে সব অস্বাভাবিক বকেয়া পেনশন বিল খতিয়ে দেখতে নতুন তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাশাপাশি যেসব পেনশনভোগীর পাওনা না থাকা সত্ত্বেও বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়ও নিরূপণ করতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আজ রোববার কন্ট্রোলার জেনারেল ডিফেন্স ফাইন্যান্সের (সিজিডিএফ) কার্যালয়ের এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে। আদেশে বলা হয়, গত ২৪ আগস্ট সিসিডিএফ (পেনশন ও ফান্ড) কার্যালয়ের কতিপয় পেনশনারের নামে সন্দেহজনক ইএফটির মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ওই কমিটির প্রাথমিক প্রতিবেদনে বিষয়টি আরও যাচাই ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের প্রয়োজন বলে উল্লেখ করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে নতুন করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

অফিস আদেশে নতুন তদন্ত কমিটিতে অ্যাডিশনাল চিফ কন্ট্রোলার অব ডিফেন্স ফাইন্যান্স (এসিসিডিএফ) আর্মি (সিভিল) এ কে এম হাছিবুর রহমানকে আহ্বায়ক এবং সিনিয়র ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার (এয়ার) কার্যালয়ের ডেপুটি ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার মোছা. বিউটি খাতুনকে সদস্যসচিব করা হয়েছে। আর এসিসিডিএফ (আর্মি, জেসিও অ্যান্ড ওআর) মো. আরিফুর রহমানকে কমিটির সদস্য করা হয়েছে।

এর আগে গত ২৪ আগস্ট গঠিত কমিটিতেও এ কে এম হাছিবুর রহমানকে আহ্বায়ক করা হয়। আর বিউটি খাতুনকে সদস্য করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে অ্যাডিশনাল চিফ কন্ট্র্রোলার অব ডিফেন্স ফাইন্যানস (সিভিল) কার্যালয়ের ডেপুটি ফাইন্যান্স কন্ট্রোলার (ডিএফসি) মো. মফিজুর রহমানকে সদস্যসচিব করা হয়েছিল। তবে মফিজুর রহমান ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের ৪ আগস্ট পর্যন্ত ওই কার্যালয়ে কর্মরত ছিলেন। তদন্তের আওতাধীন সময়ের প্রায় ১৩ মাস তিনি ওই কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই এটা স্বার্থের সংঘাতের মধ্যে পড়ে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। নতুন তদন্ত কমিটিতে তাঁকে রাখা হয়নি।

নতুন কমিটির কার্যপরিধিতে বলা হয়েছে, সিসিডিএফ (পেনশন ও ফান্ড) কার্যালয়ে ইএফটি কার্যক্রম শুরুর সময় থেকে আজ পর্যন্ত যেসব পেনশনারকে অস্বাভাবিক বকেয়া পেনশন দেওয়া হয়েছে, তাঁদের তালিকা প্রস্তুত ও যাচাই করতে হবে। একই সঙ্গে পাওনা না থাকা সত্ত্বেও যেসব পেনশন বিল পরিশোধ করা হয়েছে, সেগুলো চিহ্নিত করে এর সঙ্গে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়দায়িত্ব নিরূপণ করতে হবে।

এর আগে প্রথম আলোর অনুসন্ধানে সিসিডিএফ কার্যালয়ে পেনশনের বাইরে অবসরপ্রাপ্ত সদস্যদের ব্যাংক হিসাবে বিপুল অর্থ পাঠানোর তথ্য উঠে আসে। প্রাথমিক তদন্তে ২৬ পেনশনভোগীর নামে ৩৪৬টি বকেয়া পেনশন বিল তৈরি করে ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা সরানোর তথ্য পাওয়া যায়। প্রাথমিক তদন্তে আত্মসাতের সঙ্গে জড়িত থাকায় সিসিডিএফ কার্যালয়ের সাবেক দুই কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্তও করা হয়েছে।

আরও পড়ুন

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে দেখা যায়, অনুমোদনহীন বকেয়া বিল তৈরি করে পেনশনভোগীদের হিসাবে অর্থ পাঠানো হতো। পরে কমিশন রেখে বাকি টাকা কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে ফেরত নেওয়া হতো। ভুয়া ট্রেজারি চালানের মাধ্যমে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত এসেছে বলে নথিতে সমন্বয়ের চেষ্টা করা হয়েছে।

নতুন কমিটির কার্যপরিধিতে, নতুন তদন্ত কমিটিকে পূর্ববর্তী তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে পুরো বিষয়টি আরও যাচাই করতে বলা হয়েছে। এসব বিষয় সমন্বয় করে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন আগামী ১০ কর্মদিবসের মধ্যে সিজিডিএফের কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে কমিটি সংশ্লিষ্ট যেকোনো কর্মকর্তাকে সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবে।