রাজধানীর মোহাম্মদপুরে পুলিশের মহড়া

অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য আলোচিত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের কয়েকটি এলাকায় মহড়া দিয়েছে পুলিশ। আজ রোববার রাত আটটার দিকে মোহাম্মদপুর তিন রাস্তার মোড় থেকে এই মহড়া শুরু হয়। রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে। মহড়ায় মোহাম্মদপুর থানা–পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) ৬৬ জন সদস্য অংশ নেন।

এদিন মোহাম্মদপুরের রায়ের বাজার বুদ্ধিজীবী কবরস্থান এলাকা, সাদেক খান কাঁচাবাজার, জাফরাবাদ এলাকার বিভিন্ন স্থানে মহড়া দেন পুলিশের সদস্যরা। এই এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেন তাঁরা।

ডিএমপির মোহাম্মদপুর অঞ্চলের সহকারী কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আজকে মূলত সবাইকে সতর্ক করা হয়েছে। অভিযানে থাকা পুলিশ সদস্যদের অনেকেই এই এলাকায় নতুন দায়িত্ব পেয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মনোবল বাড়ানো এই অভিযানের অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল।’

অবশ্য এই মহড়া শুরু হওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান প্রথম আলোকে বলেন, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংসহ নানা অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে রাত আটটায় পুরো মোহাম্মদপুর এলাকায় ‘ব্লকরেইড’ শুরু হয়েছে। মোহাম্মদপুরের কোনো এলাকা এ অভিযান থেকে বাদ যাবে না। রাত ৮টায় শুরু হওয়া এই ব্লকরেইড অন্তত রাত ১২টা পর্যন্ত চলবে।

মোহাম্মদপুরের অপরাধ নিয়ে আজ রোববার প্রথম আলোতে ‘মোহাম্মদপুর কি ঢাকার সিটি অব গড’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘খুন, দখল, চাঁদাবাজি—মোহাম্মদপুরে এই ধারা চার দশকের বেশি সময় ধরে চলছে। সময় যত গেছে, অপরাধের ধরন তত বদলেছে। নতুন নতুন অপরাধী দল তৈরি হয়েছে। অপরাধ ও অপরাধী দলের তৎপরতা এখনো আছে এবং তা আগের চেয়ে বেশি।’

ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদপুরে এখন অর্ধশত অপরাধী দল সক্রিয়। এর মধ্যে বড় অপরাধী দল ১৭টি। প্রতিটি দলে ১৫-২০ জন করে অপরাধী রয়েছে।

এর আগে ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগ এলাকায় আজ রোববার দিনভর অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত অভিযোগে ৫৪ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ডিএমপি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে মোহাম্মদপুর থানা এলাকার ১৬ জন, শেরেবাংলা নগর থানার ৭ জন, আদাবর থানার ৫ জন, তেজগাঁও থানার ২ জন, তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ৪ জন এবং হাতিরঝিল থানা এলাকার ২০ জন রয়েছে।

ডিএমপি সূত্র জানায়, রোববার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় নিয়মিত অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন মো. হোসেন ওরফে শাকিল (২৫), মো. মিলন (৩৪), মো. নয়ন (২০), আবদুল্লাহ আল মামুন (২৯), মোছা. রতনা (৩৫), মোছা. জেরিন (৩৫), মোছা. কুলসুম (৩০), মোছা. আছিয়া (৪০), মো. আবুল হাসনাত রিয়াত (১৮), মো. রাসেল রুবেল ইসলাম (৩১), মো. গোলাম দস্তগীর তিতাস (৪৫), মমিনুল ইসলাম (৩৩), মো. সাগর (২৫), শাকিল (২০), রাকিবুল হাসান (২৬), রোমান খান (২০), স্বপন ব্যাপারী (৩০), মো. জাহাঙ্গীর হোসেন (৪৫), মো. রঞ্জু (৩৫), মো. শহিদুল ইসলাম (২২), মো. রাব্বি (২১), মো. সজল হাওলাদার (২২), খায়রুল আলম মিলন (২৫), ইয়াছিন (২১), আরব শাহী আরমান (২৩), মো. শাহিন (১৮), মো. আহাদ (১৮), মো. জোবায়ের ইসলাম (২১), মো. কালু ব্যাপারী (৪০), মো. রফিকুল ইসলাম (৪২), মনির হোসেন দিদার (৩৮), তানভীর ইসলাম (১৪), মো. পান্নান প্রধান (৩২), মো. শাহীন (৩৪), মো. ইমরান ফকির, মো. রুবেল হোসেন, মো. হেলাল (৩৭), মো. তারেক শরীফ (২৫), রুবেল (২৭), মো. তাহমিদুল ইসলাম (৪০), মো. সজিব, মো. আমজাদ হোসেন (৪০), মো. হৃদয় তানভীর (২৩), মো. হেলাল গাজী (৩০), মো. কাজিমুদ্দিন কাজল (৩৫), মো. হযরত আলী (৩০), মো. মিলন (২৫), মো. আকাশ মিয়া (২৪), মো. রবিউল মিয়া (২২), মো. আশিকুর রহমান (৩০), মোছা. মালা বেগম (৩৬), মো. সাজু মিয়া (৩৬), মো. আলমগীর (৪০) ও মো. ইমরান হোসেন ওরফে মারুফ (২২)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আরও পড়ুন