এমটিএফই কেলেঙ্কারি: পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে সিআইডি
অনলাইনে প্রতারণার মাধ্যমে মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) গ্রুপের বাংলাদেশ থেকে পাচার করা প্রায় ৩৬ লাখ ২২ হাজার মার্কিন ডলার উদ্ধার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা।
সিআইডির প্রধান মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ আজ রোববার প্রথম আলোকে বলেন, টাকাটা ইতিমধ্যে সোনালী ব্যাংকে সিআইডির অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
সিআইডির জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এই অর্থ গ্রহণের প্রক্রিয়া পরিচালনার দায়িত্বে থাকা অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড ১৪ মার্চ এই অর্থ জমা দেয়। পরে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাংক জেপি মরগানের মাধ্যমে তা সোনালী ব্যাংকের ঢাকার প্রধান কার্যালয়ে পাঠানো হয়।
মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ গ্রুপ (এমটিএফই) দুবাইভিত্তিক একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম। এটি মাল্টিলেভেল মার্কেটিং কোম্পানির মতো কাজ শুরু করেছিল। অ্যাপের মাধ্যমে অনলাইনে তাদের প্রতারণার জাল ছড়িয়েছিল বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশে।
যেভাবে ঘটেছিল অর্থ পাচার
এমটিএফই ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার প্রলোভন দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা শুরু করে।
সিআইডি জানায়, ২০২২ সালের জুনের দিকে বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে প্ল্যাটফর্মটি। ঘরে বসে সহজে আয়ের পথ দেখানোর কথা বলে ফেসবুক ও ইউটিউবে ব্যাপক প্রচার চালায়। ভিডিও ও বিজ্ঞাপন দেখে অনেকে আগ্রহী হন। ২০২৩ সালের শুরুতে এর বিস্তার দ্রুত বাড়ে। ব্যবহারকারীদের ভার্চ্যুয়াল ট্রেডিং অ্যাকাউন্ট দেওয়া হতো, যেখানে জমা অর্থ ডিজিটাল ডলার হিসেবে দেখানো হতো। শুরুতে বাংলাদেশে কোনো কার্যালয় না থাকলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে এমটিএফই তা–ও খোলে।
সিআইডি কর্মকর্তাদের জানায়, এমটিএফইর মাধ্যমে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তুলে মারুফ রহমান মাহিম নামের এক ব্যক্তি ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট খিলগাঁও থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে একটি মামলা করেন। এতে এমটিএফই বাংলাদেশের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাসুদ আলম, এজেন্ট মোবাশিরুল এবাদসহ ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়। মামলাটির তদন্তভার আসে সিআইডির হাতে।
সিআইডি কর্মকর্তারা জানান, এই প্ল্যাটফর্মটির ট্রেডিং কার্যক্রম ছিল ভুয়া। লাভ-ক্ষতির তথ্য কৃত্রিমভাবে তৈরি করে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা হতো। শুরুতে কিছু অর্থ পরিশোধ করে বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জন করা হয়। কিন্তু ২০২৩ সালের মাঝামাঝি হঠাৎ করে অর্থ উত্তোলন বন্ধ করে প্ল্যাটফর্মটি উধাও হয়ে যায়।
তদন্তে সিআইডি কর্মকর্তারা দেখতে পান, ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্টে দেখানো ভার্চ্যুয়াল মুদ্রা সম্পূর্ণ কাল্পনিক ছিল। বিনিয়োগকারীদের অর্থ এমটিএফই-সংযুক্ত ওয়ালেটে নিয়ে কেন্দ্রীয় অ্যাকাউন্টে জমা করা হতো এবং সেখান থেকে বিভিন্ন ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেটে ছড়িয়ে দেওয়া হতো। এভাবে বাংলাদেশ থেকে পাচার হতো অর্থ।