জোবায়েদ হত্যা মামলাটি পাঠানো হলো মহানগর দায়রা জজ আদালতে

মো. জোবায়েদ হোসেনছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল নেতা মো. জোবায়েদ হোসেন হত্যা মামলাটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে বদলির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তারের আদালতে শুনানি শেষে এই নির্দেশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে আগামী ১৩ সেপ্টেম্বর এই মামলায় অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।

আদালতের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) কামাল হোসেন প্রথম আলোকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মামলার অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গ্রহণ করে আদালত মামলাটি বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ দিয়েছেন। আজ আদালতে মামলার বাদী ও জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত উপস্থিত ছিলেন। তবে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশতিয়াক হোসেন জিপু বলেন, ‘আজ মামলাটির অভিযোগপত্র নথিভুক্ত করার দিন ধার্য ছিল। আমরা অভিযোগপত্রের ওপর কোনো নারাজি দিইনি। দ্রুত বিচারের স্বার্থে আদালত শুনানি শেষে মামলাটি বিচারের জন্য বদলির নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা চাই, দোষী ব্যক্তিদের আইন অনুযায়ী দ্রুততম সময়ে বিচার হোক।’

মামলার নথি ও অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের পরিসংখ্যান বিভাগের শিক্ষার্থী জোবায়েদ হোসেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ছিলেন। গত বছরের ১৯ অক্টোবর পুরান ঢাকার আরমানিটোলার ১৫ নম্বর নূরবক্স লেনের ‘রৌশান ভিলা’ নামের বাসায় ছাত্রীকে পড়াতে গিয়ে খুন হন তিনি।

এ ঘটনার এক দিন পর নিহত জোবায়েদের বড় ভাই এনায়েত হোসেন সৈকত বাদী হয়ে বংশাল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার প্রায় ৯ মাসের তদন্ত শেষে গত ৩০ জুন আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বংশাল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আশরাফ হোসেন।

তদন্তে উঠে এসেছে, এটি তাৎক্ষণিক কোনো হামলা ছিল না, বরং প্রায় এক মাস ধরে পরিকল্পনা, নজরদারি, ঘটনাস্থল রেকি এবং সুযোগের অপেক্ষার পর হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, প্রেমের সম্পর্কের জটিলতা এবং অন্তরঙ্গ ছবি-ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাই ছিল এই হত্যার মূল কারণ।

এই মামলায় অভিযুক্ত তিনজন হলেন ছাত্রী বার্জিস শাবনাম বর্ষা (১৯), তাঁর প্রেমিক মাহির রহমান (১৯) এবং মাহিরের বন্ধু ফারদীন আহম্মেদ আয়লান (২১)। তদন্ত কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, মাহির ছিলেন মূল হামলাকারী, বর্ষা হত্যার পরিকল্পনাকারী এবং আয়লান ছিলেন সহযোগী। অভিযুক্ত তিন আসামি বর্তমানে কারাগারে।

আরও পড়ুন