বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজের এমডিসহ ১৭ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে সিআইডির মামলা

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)ছবি: সিআইডির ফেসবুক থেকে নেওয়া

প্লট বরাদ্দের নামে গ্রাহকদের কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে না দেওয়া এবং অর্থ ফেরত না দেওয়ার অভিযোগে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), চেয়ারম্যান ও পরিচালকের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। একই সঙ্গে তাঁদের স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট ১৭টি প্রতিষ্ঠানকেও মামলায় অভিযুক্ত করা হয়েছে। আজ বুধবার সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মামলার আসামিরা হলেন বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মিজানুর রহমান, চেয়ারম্যান তানিয়া সুলতানা তানভী ও পরিচালক মো. মোমেন। গতকাল মঙ্গলবার বনানী থানায় মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধনী-২০১৫)–এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি করা হয়।

সিআইডি বলেছে, ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই অর্থ বিভিন্ন স্বার্থ–সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের তথ্যও পাওয়া গেছে।

সিআইডির ভাষ্য, ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে বেস্টওয়ে ল্যান্ড প্রোপার্টিজ লিমিটেড রূপগঞ্জের ভোলাব, তরাইল, বিরাব, মোচারতালুকসহ বিভিন্ন মৌজায় প্লট বিক্রির নামে ব্যাপক প্রচার চালায়। আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্লট দেওয়ার আশ্বাসে কিস্তিতে অর্থ নেওয়া হয়। অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর কিস্তি পরিশোধ করলেও তাঁদের অধিকাংশই প্রতিশ্রুত প্লট পাননি। অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, প্লট বরাদ্দের পরিবর্তে গ্রাহকদের জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে সাব-কবলা দলিল দেওয়া হয়েছিল।

প্লট না পাওয়া ও অর্থ ফেরত না পাওয়ার অভিযোগে কয়েকজন গ্রাহক সিআইডিতে অভিযোগ করলে সংস্থাটি অনুসন্ধান শুরু করে। তারা অনুসন্ধানে অন্তত ৩৭ জন গ্রাহকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে মোট ৭ কোটি ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬০৪ টাকা নেওয়ার তথ্য পেয়েছে বলে জানিয়েছে। এসব গ্রাহকের কাউকেই প্রতিশ্রুত প্লট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি এবং অর্থও ফেরত দেওয়া হয়নি বলে সিআইডির দাবি।

অনুসন্ধানে সিআইডি ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে মোট ২ হাজার ৭১৩টি জিম্মা, গ্যারান্টি বা সিকিউরিটি হিসেবে দেওয়া সাব-কবলা রেজিস্ট্রি দলিলের তথ্য পেয়েছে। এসব নথি ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ১৭টি প্রতিষ্ঠানের নামে পরিচালিত ৮২টি ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও রূপান্তরের প্রাথমিক প্রমাণ মিলেছে বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।

সিআইডি জানায়, এসব ব্যাংক হিসাবের ৪ বছরের তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ৩৫৯ কোটি ২ লাখ ৭১ হাজার ৯৪৫ টাকা ৭২ পয়সা জমা এবং ৩৫৮ কোটি ৫৪ লাখ ৩৭ হাজার ১০২ টাকা ৭৯ পয়সা উত্তোলন করা হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত করছে তাদের ফিন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিট। তদন্তে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সম্পৃক্ততা, প্রতারণার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, অর্থের উৎস ও গন্তব্য, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে অর্থ স্থানান্তরের ধরন এবং এ ঘটনায় অন্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে প্রতারণার শিকার অন্য গ্রাহকদের শনাক্ত ও তাঁদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থের পরিমাণও নিরূপণের কাজ চলছে।