বেড়াতে যাওয়ার টাকার জন্য হত্যা করা হয় নাজমুলকে: পুলিশ
রাজধানীর বাড্ডায় নাজমুল হক (৩২) হত্যায় জড়িত অভিযোগে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার ও গতকাল বুধবার রাতে ঢাকা এবং টঙ্গী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন আলিফ হোসেন (২০), মো. সিফাত হোসেন (২১), মো. সাকিব আল হাসান (১৯), রাইয়ান (২০) ও মো. নয়ন প্রামাণিক (২১)।
পুলিশ বলেছে, নাজমুলের সঙ্গে একটি অ্যাপে প্রথম আলিফের পরিচয় হয়েছিল। পরে বাকি চারজনের পরিচয় হয়।
গত ২৯ ডিসেম্বর রাতে নাজমুল হককে তাঁর বাসায় গলা কেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনায় নাজমুলের মামা মো. ফারুকুল ইসলাম অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বাড্ডা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
মামলার তদন্ত তদারক কর্মকর্তা বাড্ডা থানার (ওসি) কাজী নাসিরুল আমীন প্রথম আলোকে বলেন, নাজমুল বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের হিসাবরক্ষক ছিলেন। তিনি সপরিবারে বাড্ডার ভাড়া বাসায় থাকতেন। ঘটনার সময় নাজমুলের স্ত্রী ও সন্তান গ্রামের বাড়ি বরিশালের মেহেদীগঞ্জে ছিলেন।
পুলিশ কর্মকর্তা নাসিরুল আমীন বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও প্রযুক্তির সহায়তায় গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে টঙ্গীর বোর্ড বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিফাতকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই দিনই দিবাগত মধ্যরাতে রাজধানীর মগবাজারে অভিযান চালিয়ে সাকিব আল হাসান, রাইয়ান ও নয়ন প্রামাণিককে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের তথ্যের ভিত্তিতে তাঁদের অন্য আসামি আলিফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে একটি টেলিভিশন, একটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
নাজমুলের স্ত্রী যখন বেড়াতে যেতেন, তখন গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা একাধিকবার নাজমুলের বাসায় গিয়েছেন বলে জানান নাসিরুল আমীন। তিনি বলেন, সিফাত ও সাকিব বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা করেন। এর জন্য তাঁদের টাকার প্রয়োজন হয়। তাই তাঁরা নাজমুলের কাছ থেকে টাকা আদায়ের পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত ২৯ ডিসেম্বর তাঁরা একটি ধারালো ছুরি কেনেন। সেদিনই সিফাত ছুরিটি নিয়ে নাজমুলের বাসায় যান ও কৌশলে তোশকের নিচে রাখেন। এবং সুযোগ বুঝে ছুরি দিয়ে নাজমুলকে গলা কেটে হত্যা করেন। হত্যার পর তিনি নাজমুলের দুটি স্যামসাং মোবাইল, একটি টেলিভিশন ও মানিব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান। হত্যাকাণ্ডের পর খুনিরা অ্যাপে তাঁদের নিবন্ধন মুছে ফেলেন।
মামলার তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বলেছেন সিফাত একাই হত্যা করেছেন। ঘটনার সময় বাসার বাইরে ছিলেন বাকিরা।