জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ৩৪ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে করা মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ সাইফুল আলম ওরফে এস আলম ও প্রশান্ত কুমার (পি কে) হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে আরও তিনজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলাটিতে ১৫ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৪ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলো।
আজ রোববার ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫-এর বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুনের আদালতে এই সাক্ষীরা জবানবন্দি দেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের স্টেনোগ্রাফার সোহানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সাক্ষ্য দেওয়া তিনজন হলেন আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডের এমডি ও সিইও মোহাম্মদ মোদাচ্ছের হাসান, যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মগুলোর পরিদপ্তরের (আরজেএসসি) সহকারী নিবন্ধক অনন্ত কুমার পাল এবং আভিভা ফাইন্যান্সের ডিপোজিট অপারেশনসের এভিপি ও হেড অব সিআরএম মিদহাত আজিজ।
আদালত সূত্র জানায়, আজ সাক্ষীদের মধ্যে মিদহাত আজিজের জেরা শেষ হয়েছে। তবে অপর দুই সাক্ষীর জেরা আজ সম্পন্ন হয়নি। আদালত আগামী ৭ সেপ্টেম্বর এই দুই সাক্ষীর জেরার দিন ধার্য করেছেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন এস আলম গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস সামাদ, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ হাসান ও শাহানা ফেরদৌস। এ ছাড়া রিলায়েন্স ফাইন্যান্সের সাবেক ইভিপি রাশেদুল হক, সাবেক ম্যানেজার নাহিদা রুনাই, সাবেক এসভিপি কাজী আহমেদ জামাল এবং সাবেক ডেপুটি ম্যানেজার জুমারাতুল বান্নাও এ মামলার আসামি।
মারিন ভেজিটেবল অয়েলসের সাবেক এমডি জহির আহমেদ এবং পরিচালক টিপু সুলতান, মো. ইসহাক ও মো. আবদুল্লাহ আল মামুনকেও এ মামলায় আসামি করা হয়েছে। আসামিদের মধ্যে নাহিদা রুনাই ও রাশেদুল হক কারাগারে আছেন। বাকিরা পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি রয়েছে।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি এস আলম ও পি কে হালদারসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। গত বছরের ২ জুলাই দুদকের উপপরিচালক তাহাসিন মুনাবীল হক বাদী হয়ে মামলাটি করেছিলেন।
জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করে ২০১৩ সালের ৮ আগস্ট নামসর্বস্ব একটি প্রতিষ্ঠানের নামে ৩৪ কোটি টাকার মেয়াদি ঋণ অনুমোদন এবং পরে তা এস আলম সুপার এডিবল অয়েল লিমিটেডে স্থানান্তরের অভিযোগ আনা হয় মামলায়।
তদন্ত শেষে গত বছরের ১৬ অক্টোবর ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। এরপর চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি মামলার বাদী তাহাসিন মুনাবীল হকের সাক্ষ্য দেওয়ার মধ্য দিয়ে এ মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। পরে ২২ জুন ৫ জন, ৮ জুলাই ৪ জন, ১৯ জুলাই ১ জন এবং আজ ৯ আগস্ট আরও ৩ জন সাক্ষ্য দিলেন।