মিরপুরে সাগুফতা হাউজিংয়ে ২২ কোটি টাকার জমি দখলের অভিযোগ

সাগুফতা হাউজিংয়ে জমি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেন ভুক্তভোগী জমির মালিকেরা। আজ সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবেছবি: প্রথম আলো

রাজধানীর মিরপুরের সাগুফতা এন এম হাউজিংয়ের প্রায় ২২ কোটি টাকা মূল্যের ২৭ কাঠা জমি দখল করে রাখার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। মিরপুরের শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত মফিজুর রহমান মামুন, মশিউর রহমান ও মো. ইব্রাহিম এই দখলের নেপথ্যে রয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

আজ সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন নিজেদের জমির মালিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। সেখানে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মনজুর আলম নামে একজন। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত লুৎফুল বারী, শামসুজ্জামান মন্টু, এ বি এম শওকত, নজরুল ইসলাম, শাহরিয়ার আহমেদ ও নুর ইসলামও নিজেদের জমির মালিক পরিচয় দেন। তাঁরা অভিযোগ করেন, জমিতে গেলে তাঁদেরকে গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

লিখিত বক্তব্যে মনজুর আলম বলেন, ৪০ থেকে ৫০ জন ব্যক্তি মিলে সাগুফতা হাউজিংয়ের ৯টি প্লটে মোট ২৭ কাঠা জমি কেনেন। জমিগুলোর বর্তমান বাজারমূল্য প্রায় ২২ কোটি টাকা। প্রায় ১০ বছর আগে হাউজিং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে জমি বুঝে পেয়ে তাঁরা সীমানাপ্রাচীর দিয়ে ঘিরে রাখেন। জমির বৈধ দলিলের পাশাপাশি মালিকেরা নিয়মিত ভূমি উন্নয়ন করও পরিশোধ করে আসছেন।

মনজুর আলম অভিযোগ করেন, এক বছরের বেশি সময় ধরে মাহবুব আলম শেখ, আহসান ই এলাহী ও জহিরুল ইসলাম বাবুর নেতৃত্বে একটি চক্র জমিটি দখলের চেষ্টা করছিল। সর্বশেষ এক মাস আগে তাঁরা জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। শীর্ষ সন্ত্রাসী মফিজুর রহমান মামুন, মশিউর রহমান ও মো. ইব্রাহিম এই দখলের নেপথ্যে রয়েছেন। তাঁদের সহযোগিতায় জমিতে থাকা মালিকদের সাইনবোর্ড তুলে ফেলা হয়েছে এবং মালিকদের নানাভাবে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।

এ ঘটনায় পল্লবী থানায় একাধিক সাধারণ ডায়েরি (জিডি) ও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে মনজুর আলম বলেন, অভিযোগের পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কোনো কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি। উল্টো তাঁদের এখনো ক্রমাগত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, জমির মালিকানা নিয়ে কারও দাবি থাকলে তা প্রচলিত আইনের মাধ্যমেই নিষ্পত্তি করা উচিত; জোর করে জমি দখলের কোনো সুযোগ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে শামসুজ্জামান মন্টু বলেন, ‘আমাদের কাছে জমির সব বৈধ কাগজপত্র রয়েছে। অনেক কষ্টে কিস্তিতে টাকা পরিশোধ করে আমরা এই জমি কিনেছি। সেখানে ভবন নির্মাণের প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। কিন্তু তার আগেই বায়নাসূত্রে মালিকানা দাবি করে জমিটি দখল করে নেয় সন্ত্রাসীরা। পরে আমাদের সীমানাপ্রাচীরও ভেঙে ফেলা হয়।’ তিনি অভিযোগ করেন, তাঁরা জমিতে গেলে সরাসরি গুলি করে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে তাঁরা সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ ও নিরাপত্তা চান।

সংবাদ সম্মেলন থেকে জমি নিয়ে সরকারের কাছে ছয় দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—জমি দখলের বিষয়ে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করা; দলিল, খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর ও সরকারি রেকর্ডপত্র পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই করা; অবৈধ দখল, জালিয়াতি বা অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া; জমির প্রকৃত মালিকদের অধিকার নিশ্চিত করা; ভুক্তভোগী মালিকদের জানমালের পূর্ণ নিরাপত্তা দেওয়া এবং দখলদার ও সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া।