অস্বাভাবিক আচরণের ভিডিও ভাইরাল হওয়া নৌ পুলিশের এএসআইকে প্রত্যাহার

নারায়ণগঞ্জ বন্দরের ৫ নম্বর ঘাট এলাকায় মাতলামি করছেন সদর নৌ–পুলিশের এএসআই আব্দুল মান্নানছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের সদর নৌ পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আবদুল মান্নানের অস্বাভাবিক আচরণ ও অসংলগ্ন কথাবর্তার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় তাঁকে প্রত্যাহার (ক্লোজড) করা হয়েছে। গত শুক্রবার গভীর রাতে শহরের শীতলক্ষ্যা নদীর পূর্ব তীরে সদর নৌ থানার পাশের সেন্ট্রাল ৫ নম্বর খেয়াঘাট এলাকায় একটি চায়ের দোকানে ওই ঘটনা ঘটে।

আজ সোমবার জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ নৌ পুলিশের জেলা সুপার মো. আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনার ভিডিও গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এএসআই মান্নাকে প্রত্যাহার করে তাঁর কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, পুলিশ সদস্য আবদুল মান্নান অস্বাভাবিক আচরণ করছেন। তিনি মাটিতে বসে এবং দাঁড়িয়ে অস্বাভাবিকভাবে নাচের সঙ্গে গান গাইছেন, ‘কেন হবে না, ফাঁসি গো আমার’। তিনি কখনো মাটিতে বসে গান গাইছেন, আবার কখনো নাচছেন। কিছুক্ষণ পর তাঁকে বিলাপ করতেও দেখা যায়। তাঁর অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণ দেখে ঘটনাস্থলে আশপাশের লোকজন জড়ো হন। একপর্যায়ে চায়ের দোকানের এক পাশে পেতে রাখা একটি খাটে শুয়েও তিনি অশ্লীল কথাবার্তা বলেন। কাভার থেকে তিনি একটি মুঠোফোন বের করে নিচে ফেল দেন এবং চা–পানের জন্য দোকানিকে টাকা দেন।

ভিডিওতে উপস্থিত লোকজন এমন আচরণের কারণ জানতে চাইলে আবদুল মান্নান জানান, তাঁর স্ত্রী তাঁকে মারধর করেছেন। এ কারণে তিনি মাদক সেবন করেছেন, তিনি পুলিশ ও চাকরি থেকে রিজাইন (পদত্যাগ) করেছেন বলেও জানান।

নৌ পুলিশের এসপি (অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) আলমগীর হোসেন বলেন, মান্নানের সঙ্গে তাঁর স্ত্রী নারায়ণগঞ্জে থাকেন না। মান্নান এর আগে র‍্যাবে কর্মরত ছিলেন। কিছুদিন আগে বদলি হয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জে নৌ পুলিশের সদর থানায় যোগ দেন।

আরও পড়ুন