এটা সুইসাইড নয়, সরকার তদন্ত করলে অপরাধীদের খুঁজে বের করতে পারবে: তাহসিফের বাবা
বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির মরদেহ নিতে এসে তাঁর বাবা কে এম এনায়েতুল করিম বলেছেন, তাঁর ছেলের মৃত্যুর ঘটনা আত্মহত্যা (সুইসাইড) নয়। সরকার তদন্ত করলে এর সঙ্গে জড়িত প্রকৃত অপরাধীদের বের করতে পারবে। কোন চক্র এটা করেছে।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে তাহসিফ সাউরির লাশ গ্রহণ করার সময় সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি। শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে আজ বেলা ২টা ২০ মিনিটে লাশ গ্রহণ করেন কে এম এনায়েতুল করিম। পরে মরদেহ ফ্রিজিং ভ্যানে উত্তরার বাসায় নেওয়া হয়।
মর্গে এনায়েতুল করিম সাংবাদিকদের বলেন, ‘ঘটনার আগের দিন তাহসিফ তার মায়ের সঙ্গে ছিল। শপিং করেছে, হ্যাপি মুডে ছিল। সে তো অ্যাসেট। দেশের পাইলট। ওর দ্বীপ নামের একটা বন্ধু এসেছিল। মাকে বলেছিল নিচ থেকে কথা বলে আসছি। এরপরে আর ফেরে নাই।’
এনায়েতুল করিম আরও বলেন, ‘রাত ১টা ৩৫ মিনিটে তাহসিফ তাঁর মাকে ভয়েস মেসেজ দিয়েছিল, আমি আসতেছি। এরপর আর আসেনি। দ্বীপের কাছে তাহসিফের ব্যাপারে জানতে চাইলে সে বলে, আমি জানি না। তবে দ্বীপ বলেছিল, ঘটনার আগের দিন রাত ১২টা পর্যন্ত তাহসিফ আমাদের বাসার কম্পাউন্ডে ছিল।’
আজ দুপুরে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ মর্গে তাহসিফের লাশের ময়নাতদন্ত করেন কলেজের সহকারী অধ্যাপক নাসাত জাবিন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, তাহসিফের অঙ্গ–প্রত্যঙ্গের কিছু নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। সেখান থেকে প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।
নিখোঁজের এক দিন পর গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকার রাজাবাড়ী ঘাট–সংলগ্ন তুরাগ নদ থেকে বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির (২৮) মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে নৌ পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে বলা হয়, গতকাল বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯–এর মাধ্যমে খবর পাওয়া যায় যে রাজধানীর উত্তরখান থানা এলাকার রাজাবাড়ী ঘাট–সংলগ্ন তুরাগ নদে একটি মরদেহ ভাসছে। এ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যান নৌ পুলিশের সদস্যরা। তাঁরা অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির (পুরুষ) মরদেহ উদ্ধার করেন।
অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাঁরা মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। যাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়, তাঁর পরনে ছিল সাদা পাজামা ও কালো জামা। হাতে ঘড়ি। তাঁর পকেটে একটি আইফোন পাওয়া যায়। এই আইফোনের মাধ্যমে তাঁর পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তাহসিফ অবসরপ্রাপ্ত ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট ছিলেন।
ঘটনার বিষয়ে নৌ পুলিশের ঢাকা অঞ্চলের টঙ্গী ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহটি রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। তাঁর শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে বলা যাবে।