আসামি কারাগারে, জামিন সুবিধা নিতে তথ্য গোপন

চট্টগ্রাম নগরের লালখান বাজার এলাকার সন্ত্রাসী মোক্তার হোসেন কারাগারে রয়েছেন। অথচ সেই তথ্য গোপন করে আরেকটি হত্যা মামলার ধার্য দিনে তাঁকে হাজির করার জন্য সময়ের আবেদন করা হয়। আসামিকে জামিন সুবিধা পাইয়ে দিতে এটি করা হয়েছে বলে আইনজীবীরা জানান।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আইয়ুব খান বলেন, আসামি অন্য মামলায় কারাগারে থাকলে তাঁর আইনজীবীকে অবশ্যই আদালতকে সেই তথ্য জানাতে হবে। ভুল তথ্য দেওয়া ঠিক হয়নি।
আদালত সূত্র জানায়, নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস হত্যা মামলার আসামি মোক্তার হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার এই মামলার ধার্য দিন ছিল। কারাগারে থাকা নগরের লালখান বাজার ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম ওরফে মাসুমসহ তিন আসামিকে ধার্য দিনে আদালতে হাজির করা হয়। জামিনে থাকা বাকি আসামিরাও হাজির হন। এই মামলায় মোক্তারও জামিনে রয়েছেন।
২০১৭ সালের ৬ অক্টোবর নগরের সদরঘাট থানার দক্ষিণ নালাপাড়ার বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সুদীপ্ত বিশ্বাসকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। নগর ছাত্রলীগের সহসম্পাদক সুদীপ্ত বিশ্বাস আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। এ ঘটনায় তাঁর বাবা মেঘনাথ বিশ্বাস বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় সাত-আটজনকে আসামি করে মামলা করেন। সুদীপ্ত খুনের ঘটনায় ১৫-১৬ জনের নাম এসেছে। চট্টগ্রাম সরকারি সিটি কলেজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ফেসবুকে লেখালেখি করেন সুদীপ্ত। এ ঘটনার জেরে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) মামলাটি তদন্ত করছে।
এদিকে, লালখান বাজার এলাকার ব্যবসায়ী নুরুল আজমের করা দুই লাখ টাকার চাঁদাবাজির মামলায় আসামি মোক্তার হোসেন ৮ ডিসেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। তাঁর পক্ষে আবেদন করা আইনজীবী জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে বলেন, আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করা হলে আদালত মোক্তারকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন। পরে খুলশী থানা-পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করলে আদালত কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদের আদেশ দেন। আসামি এখনো কারাগারে রয়েছেন।
জানতে চাইলে চাঁদাবাজির মামলার তদন্ত কর্মকর্তা খুলশী থানার উপপরিদর্শক খাজা এনাম এলাহী বলেন, আদালতের আদেশটি পাওয়ার পর আসামিকে কারা ফটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
মোক্তার কারাগারে থাকলেও গতকাল সুদীপ্ত হত্যা মামলার ধার্য দিনে তাঁর আইনজীবী মিটন কান্তি চৌধুরী চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম মেহনাজ রহমানের আদালতে সময়ের আবেদন করেন। এতে বলা হয়, মোক্তার ভাইরাস জ্বরে আক্রান্ত। এ কারণে এই মামলায় জামিনে থাকলেও ধার্য দিনে হাজির হতে পারেননি।
জানতে চাইলে মিটন কান্তি চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, মোক্তার কারাগারে আছেন। বিষয়টি তাঁর জানা নেই। মোক্তারের স্বজনেরা তাঁকে জানিয়েছেন অসুস্থ। এ জন্য আদালতে সময়ের আবেদন করেছেন।
চট্টগ্রাম নগর পুলিশের সহকারী কমিশনার (প্রসিকিউশন) কাজী শাহাবুদ্দিন আহমেদ তাঁর কার্যালয়ে বলেন, আসামি কারাগারে থাকলে তাঁর আইনজীবীকেই সেই তথ্য আদালতকে জানাতে হবে। আদালত আসামিকে ধার্য দিনে হাজির করতে পিডব্লিউ (প্রোডাকশন ওয়ারেন্ট) জারি করতে পারেন।
সুদীপ্তের বাবা মেঘনাথ বিশ্বাসের দাবি, আসামিকে বাড়তি সুবিধা দিতে ভুল তথ্য উপস্থাপন করা করা হয়েছে।