ইউপি চেয়ারম্যান কেটে নিলেন সরকারি গাছ

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে সড়কের পাশ থেকে অবৈধভাবে ১১টি মেহগনিগাছ কেটে নিয়ে গেছেন স্থানীয় এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান। গত বুধবার তিনি শ্রমিকদের দিয়ে গাছগুলো কেটে নিয়ে যান।
এলাকাবাসী, উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের বারইপটল-ফুলদহেরপাড়া সড়কের দুই পাশে ১৯৯০ সালে মেহগনিগাছের চারা রোপণ করা হয়। ফুলদহেরপাড়া গ্রামের সাজেদা-মমতা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট জামালপুর এলজিইডি কার্যালয়ের অনুমতি নিয়ে শর্ত সাপেক্ষে সরকারি সড়কের পাশে গাছের চারা রোপণ করে। স্থানীয় সরকার বিভাগ, ইউনিয়ন পরিষদ ও সাজেদা-মমতা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট গাছের উপকারভোগী। ২০১৫ সালের ৪ নভেম্বর গাছগুলো কাটার জন্য সাজেদা-মমতা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের সদস্যসচিব আজিজুল আলিম এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলীর কাছে আবেদন করেন। কিন্তু তাঁকে গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়নি। গাছ কাটার জন্য এলজিইডির পাশাপাশি পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয়ের অনুমতি প্রয়োজন হয়।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, পরিবেশ ও বন মন্ত্রণালয় ও এলজিইডির অনুমতি ছাড়াই গত বুধবার দুপুরে পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহের হোসেন বারইপটল-ফুলদহেরপাড়া সড়কের পাশের ১১টি মেহগনিগাছ কাটা শুরু করেন। এলাকাবাসী সড়কের পাশ থেকে গাছ কাটতে দেখে বিষয়টি উপজেলা প্রকৌশলী ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) জানান। খবর পেয়ে সন্ধ্যায় ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ও উপজেলা প্রকৌশলী ঘটনাস্থলে আসেন। তাঁরা গাছগুলো ওই চেয়ারম্যানের জিম্মায় রেখেই চলে যান। তবে চেয়ারম্যান গাছগুলো ১৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।
পিংনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহের হোসেন অনুমতি ছাড়াই গাছগুলো কাটার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘আমি গাছগুলো ১১ লাখ টাকায় বিক্রি করেছি। তবে এভাবে গাছ কাটা উচিত হয়নি। গাছ বিক্রির টাকা সাজেদা-মমতা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টে দান করা হবে।’
উপজেলা প্রকৌশলী আমজাদ হোসেন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান মোতাহের হোসেন সড়কের পাশের গাছগুলো কেটে বিক্রি করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে থানায় জিডি করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত ইউএনও মিজানুর রহমান বলেন, জনপ্রতিনিধি হিসেবে গাছগুলো ওই ইউপি চেয়ারম্যানের জিম্মায়ই রাখা হয়েছে। পরে মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন সাপেক্ষে নিলাম ডেকে এগুলো বিক্রি করা হবে।