কদমতলী যেন হেরোইনের খনি
রাজধানীর কদমতলী এলাকা থেকে প্রায় প্রতিদিন হেরোইনসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার হচ্ছেন। গত দুই মাসে কদমতলী থানায় হেরোইনের মামলা হয়েছে ৫৪টি। পুলিশ এ সময়ে চার কেজি হেরোইন জব্দও করেছে।
কদমতলীতে এত হেরোইন কেন? প্রশ্ন করা হলে কদমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোকে বলেন, রাজধানীর অন্যান্য এলাকার চেয়ে অপেক্ষাকৃত নিম্ন আয়ের মানুষের বসবাস কদমতলীতে। তারা চায় কম দামের মাদক। হেরোইনের দাম ইয়াবার চেয়ে অনেক কম। একটি ইয়াবা বড়ির দাম দুই থেকে আড়াই শ টাকা। এক বোতল ফেনসিডিল তিন শ টাকা। সেখানে এক পুরিয়া হেরোইন কিনতে লাগে মাত্র ৪০ টাকা। এ কারণে কদমতলীতে হেরোইনের কাটতি বেশি।
ঢাকা মহানগর পুলিশের গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে কদমতলী থানায় মাদকের মামলা হয়েছে ৮২টি। এর মধ্যে কেবল হেরোইনের মামলা ৫৪টি। আর ২০১৪ সালে কদমতলী থানায় হেরোইনের মামলা হয় ১২৯টি।
কদমতলীর কয়েকজন বাসিন্দা প্রথম আলোকে বলেন, কদমতলীর ওয়াসা বটতলা পানির পাম্প মোড়, ওয়াসা রোডের আর কে চৌধুরী বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, বিড়ি ফ্যাক্টরির মোড়, মোহাম্মাদবাগ, মুজাহিদনগর, খেজুরবাগান এলাকা, ওয়াসা রেলগেটসংলগ্ন এলাকায় হেরোইনের বেচাকেনা বেশি। আর এই হেরোইন ব্যবসার নেতৃত্ব দিচ্ছেন বিল্লাল হোসেন ওরফে ডাকাত বিল্লাল। পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। তাঁর লোকজনই হেরোইন ব্যবসা চালাচ্ছেন বলে এলাকার লোকজন অভিযোগ করেছেন।
আদালতে মামলার নথিপত্রে দেখা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন কাঙাল নামের কুখ্যাত এক মাদক ব্যবসায়ী। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পেয়ে ফের জড়িয়ে পড়েন হেরোইন ব্যবসায়। সম্প্রতি দুই হাজার পুরিয়া হেরোইনসহ তিনি পুনরায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে আছেন। কাঙালের মতো হেরোইন ব্যবসায়ী শামীম, চান্দুসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ বারবার গ্রেপ্তার করে।
আদালত পুলিশের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা মোহাম্মদ হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, কদমতলী থানায় কেবল হেরোইনের মামলা। প্রতিদিন হেরোইন ব্যবসায়ীদের গ্রেপ্তার করে আদালতে চালান দেয় কদমতলী থানার পুলিশ। পরবর্তী সময়ে তাঁরা আদালত থেকে জামিনে ছাড়াও পেয়ে থাকেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ১১ ফেব্রুয়ারি কদমতলী থানার নবারুণ গলির শহীদ মিয়ার বাড়ির সামনে থেকে তিন হাজার পুরিয়া হেরোইনসহ গ্রেপ্তার হন ফারুক মিয়া নামের এক ব্যক্তি। একই দিন দক্ষিণ রায়েরবাগের মুজাহিদনগর এলাকার একটি বাসা থেকে মাদক ব্যবসায়ী মাসুদা বেগমসহ চারজনকে ৩০০ গ্রাম হেরোইনসহ গ্রেপ্তার করা হয়। আর ১৮ ফেব্রুয়ারি কদমতলীর জুরাইন মেডিকেল রোডের মুরাদপুরের ১৩২ নম্বর বাড়ির গেটের সামনে থেকে রাকিব নামের এক হেরোইন ব্যবসায়ী দুই হাজার পুরিয়া হেরোইনসহ ধরা পড়েন। পুলিশ এসব হেরোইন ব্যবসায়ীকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে।
কদমতলী থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী প্রথম আলোর কাছে স্বীকার করেন, কদমতলীর ওয়াসা এলাকাজুড়ে হেরোইন ব্যবসা চলছে। তবে হেরোইন ব্যবসায়ীদের ধরতে পুলিশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে। তারপরও হেরোইন কমছে না।