খাঁটি সোনা রেখে দেয় নকল সোনা...

ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার কয়রাপুর গ্রামের জুয়েল মিয়া (৩৫) ও পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার দক্ষিণ মাটিভাঙ্গা গ্রামের হালিমা বেগম ওরফে চম্পা (২৫)। তাঁদের বসবাস ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার বৈলর এলাকায় এক ভাড়া বাড়িতে। সেখান থেকে শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলায় এসে সোনার নকল বার দেখিয়ে খাঁটি সোনার অলংকার নেওয়ার চেষ্টা করেন তাঁরা। কিন্তু জুয়েল ও চম্পার এই কৌশল ধরে পড়ে যায়। আজ সোমবার সকালে এই দুজনকে ধরে ফেলে এলাকাবাসী।
পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ত্রিশালের বৈলর এলাকায় ভাড়া বাড়িতে চম্পা ও জুয়েল মিয়া সোনার নকল বার দেখিয়ে বিভিন্ন উপজেলায় প্রতারণা করে আসছেন। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে জুয়েল ও চম্পা কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসেন। এ সময় সেখানে চিকিৎসা নিতে আসা পৌরশহরের মাহবুব হাসানের স্ত্রী লুৎফা বেগমের সঙ্গে সখ্য গড়েন। একপর্যায়ে তাঁরা লুৎফা বেগমকে অর্থকড়ি বা স্বর্ণালংকারের বিনিময়ে সোনার বার নিতে বলেন। বিষয়টি লুৎফার কাছে সন্দেহ হয়। একপর্যায়ে জুয়েলের সঙ্গে লুৎফার বাগ্বিতণ্ডা হয়। এ সময় জুয়েলকে ধরে ফেলেন তিনি। কিন্তু পাশে থাকা চম্পা শারীরিকভাবে লুৎফাকে আঘাত করেন। তখন আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে জুয়েল ও চম্পাকে ধরে ফেলে। পরে যাচাই করে দেখা যায়, সোনার বারগুলো আসলে ধাতব খণ্ড। জুয়েল ও চম্পার সঙ্গে থাকা প্রতারক চক্রের দুই সদস্য পালিয়ে যান। আটক জুয়েল ও চম্পাকে পুলিশের কাছে তুলে দেওয়া হয়েছে। এঁদের বিরুদ্ধে নালিতাবাড়ী থানায় মামলা হয়েছে। জুয়েল ও চম্পা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রতারণার কথা স্বীকার করেছেন।
নালিতাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) সারওয়ার হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, প্রতারক চক্রের সঙ্গে থাকা পলাতক দুজনকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে গ্রেপ্তার দুজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ড আবেদন করা হবে।