খাগড়াছড়িতে সাংবাদিক পেটালেন পৌর মেয়র

খাগড়াছড়ি হাসপাতালে চিকিৎ​সাধীন নীরব চৌধুরী l প্রথম আলো
খাগড়াছড়ি হাসপাতালে চিকিৎ​সাধীন নীরব চৌধুরী l প্রথম আলো

প্রথম আলোর খাগড়াছড়ির আলোকচিত্র সাংবাদিক নীরব চৌধুরীকে গতকাল রোববার মারধর করেছেন পৌর মেয়র মো. রফিকুল আলম। পরে তাঁকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ১০টায় নীরব চৌধুরী চেঙ্গী নদীর রাজ্যমুনীপাড়া এলাকায় অবৈধভাবে বালু তোলার ছবি তুলতে যান। এ সময় অজ্ঞাত এক যুবক ছবি তুললে সমস্যা হবে বলে তাঁকে হুমকি দেন। এরপর যুবকটি দিদার নামের আরেকজনকে মুঠোফোনে ঘটনাস্থলে চলে আসতে বলেন। দিদার এসে জোরপূর্বক নীরবকে মোটরসাইকেলে উঠিয়ে পৌর ভবনে নিয়ে যান। পৌর ভবনে সচিবের কক্ষে নেওয়া হয় নীরবকে। এরপর মেয়র রফিকুল আলম চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে তাঁকে মারধর করেন। নীরব চৌধুরীর কাছ থেকে একটি লিখিত অঙ্গীকারনামা নিয়ে দুপুরের দিকে তাঁকে ছেড়ে দেন মেয়র।
হামলার ব্যাপারে মেয়র রফিকুল আলম বলেন, ‘বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের উন্নয়নকাজের জন্য একটি জায়গা ভরাটের জন্য চেঙ্গী নদী থেকে বালু তোলা হচ্ছিল। নীরব সেখানে গিয়ে চাঁদা দাবি করায় স্থানীয় লোকজন তাঁকে আমার কার্যালয়ে নিয়ে আসেন। আমি অঙ্গীকারনামা নিয়ে সাংবাদিকদের জিম্মায় তাঁকে ছেড়ে দিয়েছি। মারধরের অভিযোগ ঠিক নয়।’
নীরব চৌধুরী মুঠোফোনে বলেন, ‘আমি পেশাগত দায়িত্ব পালন করছিলাম। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে। আমাকে মারধর করা হয়েছে।’
খাগড়াছড়ি হাসপাতালের চিকিৎসা কর্মকর্তা মিটন চাকমা বলেন, নীরব চৌধুরীর কানে আগে থেকে সমস্যা ছিল। এখন সেটা বেড়েছে। শুনতে সমস্যা হচ্ছে। মাথায় ব্যথা আছে। সুস্থ হতে কয়েক দিন লাগতে পারে।
খাগড়াছড়ির সাংবাদিক প্রদীপ চৌধুরী বলেন, ‘পৌর মেয়র একজন জনপ্রতিনিধি। নীরব চৌধুরীর বিরুদ্ধে তাঁর কোনো অভিযোগ থাকলে আমাদের জানাতে পারতেন। কিংবা আইন-আদালত ছিল, সেখানে যেতে পারতেন। ধরে এনে এভাবে মারধর করা বর্বরতার শামিল।’
খাগড়াছড়ি সদর থানার ওসি তারেক মো. আবদুল হান্নান বলেন, নীরব চৌধুরীর ওপর হামলার বিষয়টি পুলিশকে কেউ জানায়নি। অভিযোগ দিলে নেওয়া হবে।