খুলনায় দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ
খুলনা নগরের মধ্যে দুটি বাল্যবিবাহ বন্ধ করে দিয়েছে জেলা প্রশাসন। আর প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া সত্ত্বেও মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার অপরাধে তিন অভিভাবককে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। গত বুধবার রাতে নগরের দোলখোলা এলাকায় ও বাগমারা মন্দিরে বিয়ে দুটি হওয়ার কথা ছিল।
দুটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুর-ই-আলম। এ সময় জেলা প্রশাসনের নির্বাহী হাকিম আতিকুল ইসলাম ও সদর থানা-পুলিশের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
জানা গেছে, বুধবার রাতে যশোরের মনিরামপুর উপজেলার প্রশান্ত কর্মকার তাঁর সদ্য এসএসসি পাস করা মেয়েকে খুলনা নগরের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের দোলখোলা এলাকায় ভায়রার বাড়িতে রেখে বিয়ে দিচ্ছিলেন। এ সময় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে ভ্রাম্যমাণ আদালত মেয়ের বাবাকে ও তাঁর ভায়রা বিশ্বনাথ ধরকে ১৫ দিন করে বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
একইভাবে ওই রাতেই ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাগমারা এলাকায় বাগমারা মন্দিরে সাতক্ষীরার আশাশুনি এলাকার বিশ্বেশ্বর তাঁর অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজন করেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত ওই মন্দিরে অভিযান চালিয়ে বিয়ে বন্ধ করে দেন এবং মেয়ের বাবাকে ১০ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
এ ব্যাপারে আতিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান দুটি পরিচালনা করা হয়। প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া সত্ত্বেও মেয়েকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টার প্রমাণ পাওয়ায় তাঁদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর বন্ধ করা হয়েছে বিয়ে দুটি। আসামিদের রাতেই কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
জানতে চাইলে মেয়ে দুটির পরিবারের উদ্ধৃতি দিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, মনিরামপুরের মেয়েটিকে এলাকার বখাটেরা উত্ত্যক্ত করত। আর আশাশুনির মেয়েটির পরিবার দরিদ্র।