চুরি আতঙ্কে একটি গ্রামের ৪৫০টি পরিবার
এক মাস ধরে প্রায় প্রতি রাতেই গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটছে। স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) থেকে পাহারার ব্যবস্থা করা হলেও চুরি থামছে না। এর ফলে চুরির আতঙ্কে ভুগছে গ্রামবাসী। এই চিত্র শরীয়তপুরের জাজিরার মুলনা ইউনিয়নের ছাব্বিশপাড়া ফকিরকান্দি গ্রামের।
জাজিরা থানা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরা, শরীয়তপুর সদর ও মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার সীমানায় ছাব্বিশপাড়া ফকিরকান্দি গ্রামের অবস্থান। মরা কীর্তিনাশা নদের দুই পাড়ে গ্রামটি অবস্থিত। এই গ্রামে ৪৫০টি পরিবারের বসবাস। এক মাস ধরে গ্রামে চোরের উপদ্রব বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতি রাতেই গ্রামের কোনো না কোনো বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটছে। এ সময় গ্রামের ৩০টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে।
চোরের উপদ্রবে অতিষ্ঠ গ্রামবাসী ইউপি চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হয়। এরপর পরিষদ থেকে তিনজন গ্রাম পুলিশকে রাতে পাহারা দেওয়ার জন্য নিয়োজিত করা হয়েছে। কিন্তু চুরি থেমে নেই। সবশেষ বৃহস্পতিবার রাতে গ্রামের রেজাউল মাতবরের দোকানে চুরির ঘটনা ঘটেছে। টাকা ও দোকানের মালামাল নিয়ে গেছে দুর্বৃত্তরা।
রেজাউল মাতবর প্রথম আলোকে বলেন, ‘গ্রামে চুরির ঘটনা শুরু হওয়ার পর থেকে রাতে দোকানেই থাকি। বৃহস্পতিবার রাতে কাজে বাড়ি গিয়েছিলাম। ফিরতে একটু দেরি হয়েছে। এসে দেখি দোকানে কিছুই নেই। দোকানঘরের বেড়া কেটে টাকা ও মালামাল নিয়ে গেছে।’
গত ২ মার্চ চুরি হয় জলিল মিয়ার বাড়িতে। চোরেরা টাকা, ল্যাপটপ, মুঠোফোন ও স্বর্ণালংকার নিয়ে গেছে। পরদিন জলিল মিয়া জাজিরা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ করেন।
জলিল মিয়া বলেন, ‘আগে কখনো আমাদের গ্রামে চুরির ঘটনা ঘটতে দেখিনি। গত এক মাসে ৩০টি বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টিতে আমরা উদ্বিগ্ন ও আতঙ্কিত। আমার ঘরে যখন চোর প্রবেশ করে, তখন আমার স্ত্রী ও সন্তানেরা টের পায়। চোর চক্র ধারালো অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সব চুরি করে পালিয়ে যায়।’
মুলনা ইউপির চেয়ারম্যান নুরুল আমীন হাওলাদার বলেন, ‘ছাব্বিশপাড়া ফকিরকান্দি গ্রামে চুরির ঘটনা নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। কোনোভাবেই চুরির ঘটনা বন্ধ করতে পারছি না। গোপন সূত্রে খবর পেয়েছি, ওই গ্রামের কোনো মানুষের সহায়তা নিয়ে একটি চক্র এই কাজ করছে। চক্রটিকে হাতেনাতে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আপাতত ইউনিয়ন পরিষদ থেকে তিনজন গ্রাম পুলিশ নিয়োজিত করা হয়েছে পাহারা দেওয়ার জন্য।’
জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন বলেন, একটি সংঘবদ্ধ চক্র এই চুরির ঘটনার সঙ্গে যুক্ত। চক্রটিকে আটকের চেষ্টা চলছে। এখন থেকে রাতে ওই গ্রামে পুলিশ টহল দেবে।