চুয়াডাঙ্গায় আতঙ্ক ছড়িয়ে টাকা হাতাচ্ছে ওঝা-সাপুড়েরা

>• আলমডাঙ্গায় কথিত জিনসাপের দংশনে ৩৩ জন অসুস্থ।
• স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এটা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা।


চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার বলেশ্বরপুর গ্রামে কথিত জিনসাপের আতঙ্ক ছড়িয়ে ওঝা-সাপুড়েরা টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত গ্রামটির ৩৩ জন কথিত জিনসাপের দংশনে অসুস্থ হয়েছে। তবে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, এটা গণমনস্তাত্ত্বিক সমস্যা ছাড়া কিছুই নয়।

আলমডাঙ্গা শহর থেকে ২০ কিলোমিটার দূরের গ্রাম বলেশ্বরপুর। গ্রামটিতে গতকাল সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত অবস্থান করে সাধারণ মানুষকে কথিত জিনসাপ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করতে দেখা যায়।

গ্রামবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বলেশ্বরপুর গ্রামের স্কুলপাড়ার ছয়-সাতটি বাড়িতে জিনসাপে দংশনের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হচ্ছে। কথিত জিনসাপ প্রথম দংশন করে স্থানীয় জালাল উদ্দিনের ছেলে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র সুমনকে (১১)।

সুমনের মা রোজিনা খাতুন দাবি করেন, জিনসাপ তাঁকে ও স্বামীসহ বাড়ির ছয়জনকে দংশন করেছে। ওঝা মনোয়ার ও সুফিয়া ঝাড়ফুঁক করে বিষ নামিয়েছে।’

গতকাল দুপুরে বাড়িতে গিয়ে ওঝা মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তিনি দাবি করেন, গতকালই তিনিসহ পরিবারের পাঁচজন সদস্য জিনসাপের দংশনের শিকার হয়েছেন।

প্রথম আলোর অনুসন্ধানে জানা গেছে, যে ৩৩ জনকে কথিত জিনসাপ দংশন করেছে বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁরা সবাই একই মহল্লার বাসিন্দা এবং পরস্পরের আত্মীয়। তাঁদের শরীরে কোথাও কাটা-ছেঁড়ার দাগ পাওয়া যায়নি। অথচ তাঁরা প্রচার করছেন, কারও পায়ে, কারও হাতে, কারও শরীরে দংশন করেছে জিনসাপ। সবাই অভিন্ন ভাষায় শরীর দুর্বল ও মাথা ঝিমঝিম করা ও শরীর জ্বলে যাওয়ার কথা বলেছেন।

যাঁরা জিনসাপের অস্তিত্ব নেই বলে মত দিয়েছেন, তাঁরা বলছেন, একশ্রেণির মানুষ বৃথা আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। তাদের লক্ষ্য, টাকা-পয়সা হাতিয়ে নেওয়া।

এমন ভাষ্যের সত্যতা মিলল ওঝা মনোয়ারের বাড়িতে অবস্থানকালেই। সেখানে আসেন ঝিনাইদহের সাপুড়ে লিটন মল্লিক। তিনি দাবি করেন, গ্রামটিতে জিনসাপ আছে। জিনসাপকে সন্তুষ্ট করতে গ্রামে ঝাঁপান গান দিতে হবে। এতে প্রায় ১২ হাজার টাকা খরচ হবে।

হাড়োকান্দি-বলেশ্বরপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র হৃদয় আলী বলে, তার ছোট বোন রিপা খাতুন অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। চিকিৎসক জানিয়েছেন, সে গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে ভুগছে। হৃদয় বলে, ‘আমি নিজেও জিনসাপে বিশ্বাস করি না।’ বিদ্যালয়ের ধর্মীয় শিক্ষক ছানোয়ার হোসেন বলেন, ইসলাম ধর্মে কোথাও জিনসাপের অস্তিত্ব নেই। এটা এক ধরনের কুসংস্কার।

আলমডাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ রানা বলেন, ‘যারা জিনসাপে কামড়িয়েছে বলে দাবি করছে, তারা আসলে গণমনস্তাত্ত্বিক রোগে ভুগছে। এটা আসলে একজনের দেখাদেখি অন্যজন অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনা। গ্রামটিতে আজ (রোববার) মেডিকেল টিম পাঠানো হবে।’