জলাশয় ভরাট করছে সরকার!

যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের স্থাপনা নির্মাণের জন্য শহরের বেজপাড়া জিরো পয়েন্ট এলাকার জলাশয় ভরাট করা হচ্ছে।
প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন-২০০০ অনুযায়ী, কোনো পুকুর, জলাশয়, নদী, খাল ইত্যাদি ভরাট করা বেআইনি। আইনের ৫ ধারা অনুযায়ী, প্রাকৃতিক জলাধার হিসেবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণি পরিবর্তন বা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার, ভাড়া, ইজারা বা হস্তান্তর বেআইনি। কোনো ব্যক্তি এই বিধান লঙ্ঘন করলে আইনের ৮ ও ১২ ধারা অনুযায়ী পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। একই সঙ্গে পরিবেশ সংরক্ষণ আইন (২০১০ সালে সংশোধিত) অনুযায়ী, যেকোনো ধরনের জলাশয় ভরাট করা নিষিদ্ধ।
সফটওয়্যার পার্ক সূত্রে জানা গেছে, জলাশয়টি ভরাট করে সীমানাপ্রাচীর ও পায়ে হাঁটা পথ নির্মাণের জন্য দরপত্রের মাধ্যমে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২ কোটি ৪২ লাখ টাকার কার্যাদেশ দেওয়া হয়েছে। ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে সফটওয়্যার পার্ক ও ইকো টুরিজম সৃষ্টির জন্য গত বছর গণপূর্ত অধিদপ্তর থেকে ৬ দশমিক ১৫ একরের দুটি জলাশয় অধিগ্রহণ করা হয়।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের বেজপাড়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় সড়কের দুই পাশে ৬ দশমিক ১৫ একরের দুটি জলাশয় রয়েছে। সফটওয়্যার পার্কের স্থাপনা নির্মাণের জন্য সড়কের দক্ষিণ পাশের জলাশয় ভরাটের জন্য ট্রাকে করে মাটি ফেলা হয়েছে। ইতিমধ্যে প্রায় এক-চতুর্থাংশ ভরাট করা হয়েছে। আরেকটি জলাশয় ইকো টুরিজমের জন্য ভরাট করা হচ্ছে না। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৫ দিন ধরে ট্রাকে করে মাটি ফেলে জলাশয়টি ভরাট করা হচ্ছে। শুরুর দিকে তাঁরা ভরাটকাজ বন্ধের দাবিতে জলাশয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন।
এ ব্যাপারে স্থানীয় বাসিন্দা ও ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইডিইবি) কেন্দ্রীয় সাবেক সভাপতি এম আর খায়রুল ইমাম বলেন, এ এলাকার বর্ষার পানি বের হওয়ার কোনো পথ নেই। জলাশয়টি ভরাট করা হলে বর্ষা মৌসুমে এ এলাকা জলাবদ্ধ হয়ে পড়বে। অন্যদিকে খরা মৌসুমে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাবে। ফলে নলকূপে পানি পাওয়া যাবে না।
যশোর সরকারি সিটি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ আবদুল ওহাব বলেন, জলাশয়টি এলাকার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এটির ভরাট বন্ধে প্রয়োজনে আন্দোলন করা হবে।
এ ব্যাপারে যশোর সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের প্রকল্প পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গণপূর্ত বিভাগ থেকে যে জমিটি অধিগ্রহণ করা হয়েছে ভূমি রেকর্ড অনুযায়ী তা গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইটের ভাটার পতিত জমি। এটি পুকুর বা জলাশয় নয়। এলাকাবাসীর সুবিধার জন্য এখানে ড্রেনের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
গণপূর্ত অধিদপ্তর যশোরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী দেলোয়ার হোসেন বলেন, জমিটি গণপূর্ত বিভাগের ব্রিকস ফিল্ডের (ইটের ভাটা) জমি হিসেবে রেকর্ড রয়েছে। স্থাপনা নির্মাণকাজের জন্য অতীতে জেলায় জেলায় গণপূর্ত বিভাগ ইটের ভাটা তৈরি করে। ওই ভাটায় ইট কাটতে মাটির প্রয়োজনে পুকুরের মতো খনন করা হয়। এ জন্য ভূমি রেকর্ডে ব্রিকস ফিল্ডের জমি হিসেবে দেখানো আছে।